ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগের পরিকল্পনা নেই ইরানের। ইউরোপীয় জোটের সাথে নতুর করে আলোচনায় বসার আগে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আব্বাস আরাগচি সোমবার (২১ জুলাই) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আপাতত সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা হয়েছে। কারণ ক্ষয়ক্ষতিগুলো গুরুতর।’
আরাগচির মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ইস্তাম্বুলে ২৫ জুলাই ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে তেহরানের।
তিনি দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে ‘জাতীয় গর্বের’ উৎস বলে অভিহিত করে বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করব না। কারণ এটি আমাদের দেশের বিজ্ঞানীদের একটি অর্জন।’
হামলার পর সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি-না জানতে চাইলে আরাগচি বলেন, তার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা পারমাণবিক পদার্থ ও সমৃদ্ধকরণ পদার্থের ঠিক কী হয়েছে, তা মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর সমর্থনে গত ২২ জুন ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই দিন ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। যার মধ্যে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত ফরদো ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার এই হামলাকে সফল বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ওই তিনটি স্থাপনা ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ হয়েছে।
ইরানের কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে উল্লেখ করে আরাগচি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘হ্যাঁ, স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি তো আছেই। আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, আমাদের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাইরে থেকে আমদানি করা কিছু নয় যে বোমা হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করা যাবে।’
এদিকে আরাগচির মন্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেন, ‘আমি যেমনটা বলেছি, প্রয়োজন হলে আমরা আবারো হামলা করব।’
সূত্র : এএফপি



