ইসরাইলের ক্রমাগত বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ১০ জন ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তবে ইসরাইলের ‘একগুঁয়েমির’ কারণে যুদ্ধবিরতির জন্য চলমান আলোচনা ‘কঠিন’ হয়ে পড়েছে বলেও তারা সতর্ক করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, মূল মধ্যস্থতাকারী কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনায় এখনো বেশ কিছু বিষয়ে দ্বিধা রয়ে গেছে। এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ, গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রকৃত নিশ্চয়তা’ অন্যতম।
হামাসের কর্মকর্তা তাহের আল-নুনু বলেন, ‘হামাস সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। সেই সাথে আমাদের জনগণকে রক্ষা করা, গণহত্যা বন্ধ করা ও যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের জনগণের অবাধ ও মর্যাদাপূর্ণ চলাফেরা নিশ্চিত করা এবং সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখাতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে ইসরাইলি সেনাদের যেসব এলাকা থেকে সরে যাওয়ার কথা, তা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন তা ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রায় কোনো প্রভাব না ফেলে এবং ‘আলোচনার দ্বিতীয় ধাপের পথ প্রশস্ত করে’।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে দুইবার বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে, যদিও তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে আশা খানিকটা কম মনে হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি এই সপ্তাহে অথবা আগামী সপ্তাহে আমাদের একটা সুযোগ আছে। তবে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ, গাজা বা আমরা যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি, সেগুলোতে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। তবে খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে যে আমরা এই সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহেই কোনো না কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির একটি টেলিভিশন ভাষণে বলেন, এমন একটি চুক্তির অগ্রগতির জন্য ‘পরিবেশ তৈরি হয়েছে’, যার আওতায় ১০ জন জীবিত পণবন্দী এবং অপর নয়জনের লাশ ফেরত দেয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



