ইসলামাবাদ চুক্তিতে ৬০০ কোটি ডলার ফেরত পাচ্ছে তেহরান

কাতারে থাকা ইরানের মোট ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে প্রথম দফায় ৬০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান |ফাইল ছবি

আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের’ (এমওইউ) আওতায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্ত হতে যাচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা শোবেইরি জানজানীর সাথে এক বৈঠকে এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, কাতারে থাকা ইরানের মোট ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে প্রথম দফায় ৬০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বাকি অর্থ ফেরত আনার জন্যও প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে তেহরান।

তেল ও পেট্রোকেমিক্যালের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টিকে ইরানি জনগণের এক মহাবিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ঐতিহাসিক সমঝোতা মেনে নিতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল, যদিও ইসরাইল ও কতিপয় রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে যাচ্ছে।

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতার খবরটি বৃহস্পতিবার ইরানের ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যম প্রেসটিভি নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুলাই ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার এই ইসলামাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধাবসান ঘটানো, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। চূড়ান্ত ও ব্যাপক একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ এখন ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

তবে এর মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সে দেশের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের এই অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না, বরং তা দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গম ও সয়াবিন কেনা হবে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন চাষীদের অর্থ দিয়ে ইরানের তথাকথিত ‘ক্ষুধা সমস্যার’ সমাধান করা হবে।