৪ সপ্তাহে ৬০০ কোটি ডলারের তেল বেচলো ইরান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের অবজ্ঞা করেই গত ২৬ দিনে ইরান প্রায় ৮০ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল নজরদারি সংস্থা ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স’ জানিয়েছে, বাজারে এই তেলের বর্তমান মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার।
আল জাজিরা মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জানিয়েছে, অবশ্য, নির্ধারিত সময়ের এক মাসেরও বেশি আগে মার্কিন নৌবাহিনী নতুন করে অবরোধ শুরু করায় ইরানের আরও প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল এখনো বন্দর ছাড়তে পারেনি। তবে ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স জানাচ্ছে, ইরান যদি তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্যও হয়, তাহলেও এই অবরোধ সীমানার ভেতরেই ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে আরও ৬ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল জমিয়ে রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে তাদের ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত বা ‘ওয়েভার’ বাতিল করা সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে বলে বলেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রুখে দেওয়ার জন্য ইরানের তেল মন্ত্রণালয় বহু বছর ধরেই নিজস্ব কৌশল বজায় রেখেছে। ফলে এই ওয়েভার বাতিলের পরেও তেল রপ্তানিতে কোনো সমস্যা হবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকনেজাদ আরও বলেন, "আমেরিকানরা বরাবরের মতোই তাদের কথা রাখেনি এবং ৬০ দিনের ওয়েভার সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।" তবে তেল রপ্তানি সচল রাখার কাঠামো আগে থেকেই তৈরি থাকায় দেশের তেল বিক্রির প্রক্রিয়া আগের মতোই চলছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া ছাড় বা অনুমোদন বাতিল করে।



