মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইরাকের তেল উৎপাদন সম্প্রসারণে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, ইরাকের সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হতে যাচ্ছে, যার বেশির ভাগই তেল ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে। তিনি বলেন, "ইরাকের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তেল খাতে আমরা অনেক চুক্তি করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তেল উৎপাদনও বাড়বে।"
ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদিকে "অসাধারণ একজন নেতা" বলে অভিহিত করেন এবং তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে আল-জাইদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরটি ইরাকের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার ভাষায়, "এটি কেবল একটি কূটনৈতিক সফর নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ভিত্তি স্থাপনের সুযোগ।"
তিনি বলেন, গত দুই দশকে মার্কিন-ইরাক সম্পর্ক মূলত নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এখন সেই সম্পর্ককে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেওয়াই দুই দেশের লক্ষ্য।
বৈঠকে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই নেতা জানান, বর্তমানে ইরাকে অবস্থানরত দুই হাজারেরও কম মার্কিন সেনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে। একই সময়ের মধ্যে ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনার কথাও জানান আল-জাইদি।
বৈঠকের আগে ইরাকি সরকার জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তেল ও গ্যাস খাতে একাধিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে তারা। ট্রাম্পের বক্তব্যেও সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আল-জাইদি পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের উৎপাদন কোটায় ইরাকের জন্য "ন্যায্য অংশ" দাবি করেন। তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে দেশটির অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ প্রয়োজন।
আল-জাইদির দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ইরাকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এখনও বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বড় ধরনের অর্থায়ন দরকার।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে ইরাকের জ্বালানি রপ্তানিও চাপে পড়েছে। দেশটির দৈনিক প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে ওই নৌপথে অস্থিরতা ইরাকের অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।



