ইরানের আলোচক দলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক চুক্তি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই কৌশলগত পানিপথ আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ইরান এটি শাসন ও পরিচালনা করবে।
সুইজারল্যান্ডে চারদলীয় আলোচনা শেষে দেশে ফিরে সোমবার (২৩ জুন) তিনি জোর দিয়ে বলেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং তার নির্দেশই চূড়ান্ত।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের নিবিড় আলোচনার পর গত ১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন, যা এখন কার্যকর। এই চুক্তির আওতায় চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের আলোচনায় বসেছে।
সমঝোতার ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান কেবল ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনা ফিতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে।
সামরিক সাফল্য ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে কোনো বিভেদ নেই উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, কূটনীতি হলো যুদ্ধক্ষেত্রেরই একটি অংশ। সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ বিজয়ের পর যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ অবসানের এই ধাপে আলোচনার মাধ্যমে সাফল্য স্থায়ী করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সামরিক শক্তির জোরেই মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং বড় বড় ছাড় আদায় করা সম্ভব হয়েছে, যা শুধু যুদ্ধ দিয়ে করতে গেলে অনেক বেশি ক্ষতি হতো। চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই তেল অবরোধ উঠে গেছে এবং চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেল রফতানি, পেট্রোকেমিক্যাল, ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে।
এছাড়া সুইজারল্যান্ড আলোচনার মাধ্যমে দুই দফায় ছয় বিলিয়ন ডলার করে ইরানের আটকে থাকা তহবিল ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হলে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও আলোচনা উভয়ভাবেই জবাব দিতে প্রস্তুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান কখনোই বিশ্বাস করে না বলেই চুক্তিতে শক্ত সুরক্ষা রাখা হয়েছে, যাতে সইয়ের পরপরই তারা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি সইয়ের পর হরমুজ প্রণালী সাথে সাথে মুক্ত হওয়ার দাবি করে টুইট করলেও, ইরানের শক্ত অবস্থানের কারণে তিনি নিজের বক্তব্য সংশোধন করতে বাধ্য হন। এটিই ইরানের শক্তির প্রমাণ।
লেবানন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরুর পর থেকেই লেবাননের ওপর শত্রুদের হামলা বন্ধ হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষেরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান কাজ করে যাবে।
নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে গালিবাফ আবারো সতর্ক করেন, চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয়ভাবেই কঠোর জবাব দেয়া হবে। ইরান কখনোই অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করবে না বা জনগণের অধিকার খর্ব করা মেনে নেবে না।
সূত্র: প্রেস টিভি



