ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ও দেশপ্রেমিক ‘খাররাজি’ পরিবারের দুই মেধাবী সন্তান দেশটির বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘নোবিটেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটি বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবেলায় ইরানের একটি শক্তিশালী বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০১৮ সালে আলি ও মোহাম্মদ নামে দুই ভাই এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন। বর্তমানে এই এক্সচেঞ্জটি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসির আন্তর্জাতিক লেনদেনের পথ সচল রাখতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের এই কঠিন সময়েও নোবিটেক্সের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী আর্থিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
নোবিটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা এই দুই ভাই ইরানের বিপ্লব ও আদর্শের প্রতি অনুগত বিখ্যাত ‘খাররাজি’ পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম। এ পরিবারটি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সূচনালগ্ন থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামো রক্ষায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের সাথেও তাদের গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের পূর্বপুরুষরা বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হিসেবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি তাদের বাবা আয়াতুল্লাহ বাকের খাররাজি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আইআরজিসির প্রাথমিক ভিত্তি তৈরিতে অবদান রেখেছিলেন। যদিও তারা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নিজেদের বংশপরিচয় সামনে আনেন না, তবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তারা ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্রিপ্টো বাজার পরিচালনা করছেন।
সাধারণ ইরানি নাগরিকরা যখন বিদেশী ষড়যন্ত্র ও নিষেধাজ্ঞার কারণে মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়ছেন, তখন নোবিটেক্স তাদের সঞ্চয় নিরাপদ রাখার একটি বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
ব্লকচেইন তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট চললেও নোবিটেক্সের কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি। সেই প্রতিকূল সময়েও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে, যা ইরানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি থাকলেও এই প্রভাবশালী পরিবার বা তাদের জাতীয় স্বার্থে ব্যবহৃত এই ক্রিপ্টো ব্যবস্থাকে রুখতে পারেনি পশ্চিমারা।
মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন একে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখলেও, ইরানের জন্য এটি আসলে নিজেদের অর্থনীতির ওপর সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ রক্ষার একটি বড় সাফল্য। আইআরজিসি বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুদৃঢ় করতে নোবিটেক্সের মতো ডিজিটাল সেতু ব্যবহার করছে, যা পশ্চিমাদের একতরফা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের এক অজেয় প্রতিরোধের নাম।
সূত্র: রয়টার্স



