হামলার ছায়ায় তেহরান ছাড়লেন ১৮৬ বাংলাদেশী

আনজালিতে ইসরাইলি হামলায় থমকে যায় বাস বহর, আজ আজারবাইজানে প্রবেশ, বাকু পৌঁছে চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার কথা

সৈয়দ মূসা রেজা
ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশী নাগরিকদের আজারবাইন হয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে
ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশী নাগরিকদের আজারবাইন হয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে |সংগৃহীত

যুদ্ধের ভেতরেই শুরু, পথে হামলায় থেমে যাওয়া, তারপর আবার যাত্রা—এভাবেই ইরানের তেহরান থেকে রওনা হওয়া ১৮৬ বাংলাদেশী অবশেষে আজ (১৯ মার্চ) আজারবাইজানে ঢুকেছেন। এখন তাদের গন্তব্য বাকু। সেখান থেকেই তাদের চার্টার্ড বিমানে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে আনজালিতে বিলম্ব হওয়ায় আজ রাতের ফ্লাইট নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ইরান থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার অভিযান নতুন গতি পেয়েছে। জাতিসংঘ, তুরস্ক ও তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে এই অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির কারণে এবার ধাপে ধাপে নয়, বরং একযোগে যত বেশি সম্ভব মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ৯টি বাসে করে ১৮৬ বাংলাদেশীকে তেহরান থেকে আজারবাইজানের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। দেশে ফেরার জন্য প্রায় ৩০০ জন নিবন্ধন করলেও শেষ পর্যন্ত সবাই যাত্রায় অংশ নেননি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গতকালই তাদের সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল। কিন্তু পথে ইরানের বন্দর আনজালিতে ইসরাইলি হামলার কারণে বাস বহরকে থামতে হয়। এতে পুরো যাত্রা বিলম্বিত হয়। অবশেষে আজ স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে তারা ইরান সীমান্ত অতিক্রম করে আজারবাইজানে প্রবেশ করেন।

এখন সীমান্ত থেকে রাজধানী বাকু পর্যন্ত তাদের আরো ৬-৭ ঘণ্টার পথ বাকি। তবে আনজালিতে দেরির কারণে আজ রাতেই ঢাকার ফ্লাইট ধরা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

যাত্রীদের মধ্যে রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের দুই কর্মী ও তাদের পরিবারসহ মোট আটজন রয়েছেন। এছাড়া তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং দেশটিতে কর্মরত বহু বাংলাদেশি শ্রমিকও এই বহরে আছেন। তাদের একটি বড় অংশ অবৈধভাবে ইরানে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ চলাকালেও দেশে না ফিরে ইরানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাস বহরের সঙ্গে রয়েছেন তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান মো. বনান। তবে তিনি বাকু পর্যন্ত যাবেন নাকি সীমান্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন—তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে দূতাবাসের প্রোটোকল বিষয়ক ইরানি কর্মকর্তা মাসুদ নাজাফি বাকু পর্যন্ত গিয়ে চার্টার্ড বিমানে যাত্রীদের ওঠানোর বিষয়টি তদারকি করবেন।

প্রায় আট মাস আগে ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত শুরু হলে বাংলাদেশীদের পাকিস্তান হয়ে ধাপে ধাপে দেশে ফেরানো হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হওয়ায় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জনজীবনে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়নি। বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইল ও আমেরিকা বিরোধী বিশাল সমাবেশ ও মিছিল হচ্ছে। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচিতে আকাশভেদী স্লোগানে মুখর হয়ে উঠছে রাজপথ।