গাজায় বিমান হামলায় নিহত ৪৫, যুদ্ধবিরতি পুনঃকার্যকরের ঘোষণা ইসরাইলের

রোববার গাজাজুড়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আবারো কমপক্ষে ২০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার দক্ষিণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী কমপক্ষে ২০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে গাজায় দুই বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে ‘ব্যাপক ও বিস্তৃত’ হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, রাফায় হামাস যোদ্ধাদের গুলিতে তাদের সৈন্যরা আহত হওয়ার পর তারা এই হামলা চালিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, তাদের বাহিনী ‘একাধিক উল্লেখযোগ্য হামলার পর’ গাজায় যুদ্ধবিরতি ‘পুনঃকার্যকর’ করেছে।

পৃথকভাবে একজন ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তাসংস্থাগুলোকে জানিয়েছেন, হামাসের কথিত লঙ্ঘনের পরে গাজায় মানবিক সহায়তা স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, রোববার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গাজা মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রোববার গাজায় ‘যুদ্ধে’ তাদের দুই সৈন্য নিহত হয়েছে এবং হামাস তাদের সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তু করার পর তারা হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে। তবে হামাসের সশস্ত্র শাখা জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘রাফাহ এলাকায় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা আমাদের জানা নেই। কারণ এগুলো (ইসরাইলি) দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রেড জোন। এই বছরের মার্চ মাসে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের বাকি গোষ্ঠীগুলোর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

সূত্র : আল জাজিরা