ইরানের তেহরানে অবস্থিত ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত এক সপ্তাহে ২০২টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণের মাধ্যমে এক ব্যাপক কর্মব্যস্ততা পার করেছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান আকাশপথের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দৃঢ়তাকে আবারো প্রমাণ করেছে।
বিমানবন্দর সিটির অপারেশন বিভাগের উপপরিচালক জাভাদ সালেহি আরতিমানি এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত শুক্রবার (১ মে) পর্যন্ত সাত দিনে বিমানবন্দরে মোট ২০২টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে ১০২টি ফ্লাইট বিদেশ থেকে এসেছে এবং ১০০টি ফ্লাইট তেহরান ছেড়ে গেছে। এই বিপুলসংখ্যক ফ্লাইটে চড়ে মোট ২১ হাজার ৫৪৯ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
তিনি আরো জানান, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরটি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল এবং বহির্গামী ১১ হাজার ৪২৭ জন ও অভ্যন্তরীণ ১০ হাজার ১২২ জন যাত্রীকে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা প্রদান করা হয়েছে।
পুরো সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত সময় ছিল শুক্রবার। ওই একদিনেই রেকর্ড ৩৮টি ফ্লাইট ওঠা-নামা করেছে। বিশেষ করে বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টায় ২২টি ফ্লাইটের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিকূল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্যায্য চাপ সত্ত্বেও ইরানের এই আকাশপথের ব্যস্ততা নজর কেড়েছে। এই সময়ে মোট ১১টি সচল বিমান সংস্থা বিশ্বের ২৫টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত করেছে। এরমধ্যে ইরানের নিজস্ব মহান এয়ার সবচেয়ে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছে। মোট ফ্লাইটের ৩৮ শতাংশই ছিল এই এয়ারলাইন্সের দখলে, যার সংখ্যা ৭৭টি। গন্তব্য হিসেবে যাত্রীদের প্রথম পছন্দ ছিল ইস্তাম্বুল, যেখানে ৫৯টি ফ্লাইটে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ পাড়ি জমিয়েছেন। এরপরেই সবচেয়ে বেশি যাতায়াত হয়েছে মাসকাট, নাজাফ ও মদিনা অভিমুখে।
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এ বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত এক সপ্তাহে এখান দিয়ে প্রায় চার লাখ ২৮ হাজার কেজি যাত্রীবাহী মালামাল এবং ছয় লাখ ২৪ হাজার কেজিরও বেশি বাণিজ্যিক পণ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রকার পশ্চিমা বাধা বা ইসরাইল-সমর্থিত প্রচারণাকে তোয়াক্কা না করেই মধ্যপ্রাচ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটি তার স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রুটে ইরানের এই শক্তিশালী উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, তারা শুধু আকাশপথ উন্মুক্ত রাখতেই সক্ষম নয়, বরং যেকোনো ব্যস্ততা সামাল দিতে তাদের অপারেশনাল টিমগুলো পুরোপুরি দক্ষ ও প্রস্তুত রয়েছে। মূলত এই পরিসংখ্যান ইরানের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতিশীলতারই এক জলজ্যান্ত চিত্র।
সূত্র: তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি



