গাজা যুদ্ধ নিয়ে এআই চ্যাটবটগুলোর উত্তর নিজেদের পক্ষে ঘোরাতে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের এক বিশাল গোপন ডিজিটাল অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'ড্রপ সাইট নিউজ'-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনী প্রচার প্রধান ব্র্যাড পারস্কেল এবং তার প্রতিষ্ঠান 'ক্লক টাওয়ার এক্স' ইসরাইল সরকারের সাথে এই বিপুল অঙ্কের চুক্তিটি করে। তারা এক গুচ্ছ ওয়েবসাইট বানিয়ে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনি ও পারপ্লেক্সিটির মতো জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর উত্তর নিজেদের অনুকূলে নেয়ার নীল নকশ আকছে।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বুধবার (২৯ জুলাই) জানিয়েছে, প্রযুক্তি বিশ্বে এই চতুর কৌশলকে বলা হয় 'এলএলএম পয়জনিং' বা এআইয়ের ডেটাভাণ্ডারে বিষ ঢেলে দেয়া। অ্যালগরিদম যেভাবে কাজ করে, তাতে এআই চ্যাটবটগুলো মানুষের মতো নিজস্ব মতামত তৈরি করে না; বরং ইন্টারনেটে থাকা লাখ লাখ নথি পড়ে উত্তর বানায়। অ্যালগরিদম হলো এআইয়ের কাজ করার নির্দিষ্ট ডিজিটাল নিয়মাবলী। ইসরাইলি অপতথ্য প্রচার অভিযানের মূল কৌশলটি ছিল এমন কিছু ওয়েবসাইট তৈরি করা, যেগুলো সাধারণ মানুষ খুব একটা পড়বে না। কিন্তু সার্চ ইঞ্জিন এবং এআইয়ের তথ্য সংগ্রাহক ব্যবস্থা বা অ্যালগরিদম ঠিকই সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য উৎস হিসেবে স্ক্যান বা পাঠ করে নেবে।
এই অভিযানে 'অ্যালিভিয়া ডট অর্গ', 'ফ্যাক্টসিগন্যাল ডট অর্গ' এবং 'প্যাক্সপয়েন্ট ডট অর্গ'-এর মতো ১০টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। এতে মার্কিন-ইসরাইল সামরিক সহযোগিতার পক্ষে যুক্তি সাজানো, গাজায় হত্যাকাণ্ড ও সামরিক অভিযানের সাফাই গাওয়া এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নস্যাৎ করার জন্য অজস্র নিবন্ধ লেখা হয়। ডিজিটাল অপতথ্য প্রতিরোধকারী সংস্থা 'চেক ফার্স্ট'-এর প্রধান নির্বাহী হার্ভে লেতোক্স জানান, এআই প্রশিক্ষণে 'কমন ক্রল' নামে এক বিশাল উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে এই ওয়েবসাইটগুলোকে শত শত বার স্ক্যান করেছে কমন ক্রল। ফলে অসত্য ও পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যগুলো সহজেই ঢুকে পড়েছে এআইয়ের মূল মেধা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলে।
এরই মধ্যেই এর প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, পারপ্লেক্সিটি এবং মাইক্রোসফটের কোপাইলট সামরিক সহযোগিতার উত্তর দিতে গিয়ে ইসরাইলের বানিয়ে তোলা ওয়েবসাইটগুলোর অপতথ্য ব্যবহার করছে। গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন যখন তলানিতে, ঠিক তখনই 'ইসরাইল কি গণহত্যা চালাচ্ছে?'—এমন স্পর্শকাতর প্রশ্নের উত্তরে নিরপেক্ষতার মুখোশ পরিয়ে নিজেদের বয়ান তুলে ধরতে এআই প্রযুক্তির এই মগজধোলাই পথ বেছে নিয়েছে ইসরাইল।



