তেহরানে এক রাতে ৯ বার ভূমিকম্প, বড় দুর্যোগের শঙ্কা

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পূর্ব তেহরান প্রদেশে রেকর্ড হওয়া এসব ভূমিকম্প মোশা ফল্টসংলগ্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে, যা ইরানের অন্যতম সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কম্পনগুলোর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের পারদিস এলাকায় এক রাতের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নয়টি ছোট ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

এ ঘটনায় তেহরানে বড় ধরনের ভূমিকম্পজনিত বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরান ও এর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা টেকটোনিক চাপ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। রাজধানীটি একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। যদিও এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক কয়েকটি কম্পন তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পূর্ব তেহরান প্রদেশে রেকর্ড হওয়া এসব ভূমিকম্প মোশা ফল্টসংলগ্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে, যা ইরানের অন্যতম সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কম্পনগুলোর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মেহর নিউজ সিসমোলজিস্ট মেহদি জারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এসব কম্পন জমে থাকা ভূকম্পীয় শক্তি নিঃসরণ করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাবে, নাকি আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস—তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

মেহদি জারে সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ঝুঁকি শুধু সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণে নয়; ঘনবসতিপূর্ণ নগরায়ণ, বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত দুর্যোগ প্রস্তুতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তার মতে, তুলনামূলক ছোট ভূমিকম্পও দুর্বল অবকাঠামো ও তীব্র যানজটের কারণে রাজধানীতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে, যা জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করবে।

তেহরান নর্থ তেহরান, মোশা ও রে ফল্টসহ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। ইরানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, রাজধানীর নিকটে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরানে ২০০৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো তাজা। ওই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স