ইসলামাবাদে কি বসবে ইরান-মার্কিন আলোচনার আসর ?

দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ওয়াশিংটন এখন তেহরানের সাথে একটি মাসব্যাপী 'যুদ্ধবিরতি' কার্যকর করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে ইরান মোটেও তাড়াহুড়ো করছে না; বরং তাদের মধ্যে এক ধরনের "দুঃসাহসিক জেদ ও অহংকার" কাজ করছে।

সৈয়দ মূসা রেজা

ইসরাইল ও আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ওয়াশিংটন এখন তেহরানের সাথে একটি মাসব্যাপী 'যুদ্ধবিরতি' কার্যকর করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে ইরান মোটেও তাড়াহুড়ো করছে না; বরং তাদের মধ্যে এক ধরনের "দুঃসাহসিক জেদ ও অহংকার" কাজ করছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'ইয়েদিউত আহরোনত' তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি গোপন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো অন্তত এক মাসের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ভিত্তি তৈরি করা। ওয়াশিংটন চাইছে এই সপ্তাহের মধ্যেই ইসলামাবাদের মাটিতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজন করতে। তবে ইসরাইলি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হলো, অদূর ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

সূত্র মতে, ইরান এখনো এই ১৫ দফার প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। ইসরাইলি গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব মার্কিন প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়ার বদলে নিজেদের সামরিক অবস্থান নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তারা ওয়াশিংটনকে কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে, মার্কিন সূত্রগুলো দাবি করছে যে তারা আলোচনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তাতে আমেরিকা ইরানের সাথে সরাসরি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু ইসরাইল মনে করে, ইরান সময়ক্ষেপণ করছে যাতে তারা তাদের কৌশলগত অবস্থান আরো শক্ত করতে পারে। ১৫ দফার মার্কিন এই প্রস্তাবে মূলত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা বন্ধের শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ।