উপসাগরীয় দেশগুলোতে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের হামলা

তেহরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি এখন লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টগুলোতেও বিস্তৃত হয়েছে, যেগুলোর ওপর মরুভূমিপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির সরবরাহের জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগার
সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগার |ফাইল ছবি

রোববার উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে।

তেলসমৃদ্ধ এসব উপসাগরীয় দেশে জ্বালানি ও অন্যান্য শিল্প অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালাতে সহযোগিতা করছে।

তবে উপসাগরীয় দেশগুলো এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

দুবাই থেকে এএফপি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিম উপকূলের রুওয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

উপসাগরীয় আমিরাতটির গণমাধ্যম দফতর জানায়, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হামলার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে বোরুজ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।’

তারা আরো জানায়, ‘ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে।

এর আগে শনিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘অ্যালুমিনিয়াম শিল্প’ এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে—রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বারবার উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলাও দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।

শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে খুজেস্তান প্রদেশের উপ-গভর্নর জানিয়েছেন।

রোববার বাহরাইনে দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলায় একটি সংরক্ষণ ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

‘বাপকো এনার্জিস’ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আজকের শুরুর দিকে তাদের একটি সংরক্ষণ স্থাপনায় একটি ঘটনা ঘটে, যা শত্রুতাপূর্ণ ইরানি ড্রোন হামলার ফলে ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে।’ তবে অগ্নিকাণ্ডের স্থান নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।

তারা আরো জানায়, ‘আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের দুটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ‘উল্লেখযোগ্য ভৌত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে এবং দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।

তেহরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি এখন লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টগুলোতেও বিস্তৃত হয়েছে, যেগুলোর ওপর মরুভূমিপ্রধান উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির সরবরাহের জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।