ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত শতাধিক

দিমোনা শহরের কাছে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পার্শ্ববর্তী আরাদ শহরে ৩৩ জন আহত হন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুর্ঘটনাস্থল
দুর্ঘটনাস্থল |সংগৃহীত

ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলের দু’টি শহরে গতকাল শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার চিকিৎসকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

সরাসরি আঘাত হানা ইরানের দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে আবাসিক ভবনগুলোর সামনের অংশ ভেঙে পড়েছে এবং মাটিতে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানায়, দিমোনা শহরের কাছে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পার্শ্ববর্তী আরাদ শহরে ৩৩ জন আহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনা সমৃদ্ধ দিমোনা শহরে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। মূলত ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে চালানো হামলার ‘জবাব’ হিসেবেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির ফুটেজে দেখা যায়, আরাদ শহরে উদ্ধারকর্মীরা একটি বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আহতদের খুঁজছেন। দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অসংখ্য গাড়ি এবং জরুরি সেবা কর্মীরা অবস্থান করছেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, দিমোনা ও আরাদ উভয় শহরেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এর ফলে শত শত কেজি ওজনের শক্তিশালী ওয়ারহেডসহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি আঘাত হানে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ঘটনা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা যায়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং এ থেকে শিক্ষা নেব।’

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানায়, আরাদ শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটিতে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার স্কুলগুলোকে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

চিকিৎসক রিয়াদ আবু আজাজ এক বিবৃতিতে জানান, হামলার স্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখা গেছে এবং সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

এর আগে, দিমোনা শহরেও একই ধরনের ধ্বংসলীলা দেখা যায়। শহরটি আরাদ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এএফপির ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে মাটিতে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং চারপাশে ধ্বংসস্তূপ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধাতব পাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আশপাশের ভবনগুলোর জানালা ভেঙে গেছে এবং সম্মুখভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, দিমোনা শহরে তারা ৩৩ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান।

ধারণা করা হয়, দিমোনাতেই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। তবে ইসরাইল কখনোই তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি। তারা এ বিষয়ে অস্পষ্টতা বজায় রাখে এবং দাবি করে যে, এ কেন্দ্রটি মূলত গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান নিয়মিতভাবে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত কঠিন একটি রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইসাথে তিনি ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: বাসস