লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বুধবার (১২ আগস্ট) দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের ‘সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের’ নিন্দা করেছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। একই দিন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে ‘সব বাড়িঘর ধ্বংস করছে’।
সালাম বলেন, ইসরাইলের ‘হামলা, অনুপ্রবেশ, ধ্বংসযজ্ঞ এবং বাড়িঘর, অবকাঠামো, সরকারি ভবন ও উপাসনালয়ের সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ’ আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক আইনের নীতি ও বিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, গ্রাম ও শহরগুলো ‘পুরোটাই সামরিক স্থাপনা’-এমন দাবি কোনো যুক্তির ভিত্তিতে টেকে না। এগুলো ধ্বংস করা, বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা এবং তাদের ফিরে যেতে বাধা দেয়ার অজুহাত হিসেবেও এ দাবি ব্যবহার করা যায় না।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বুধবার দক্ষিণ লেবানন সফর করেন। সেখানে তিনি ওই এলাকায় কথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকার ‘ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করছে’ এবং ‘সব বাড়িঘর ধ্বংস করছে’।
মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে এসব হামলায় চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জুনের শেষ দিকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি হয়। এতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলো’ থেকে শুরু করে ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে।
কাটজের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সব পক্ষই তাদের সম্মত কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আচরণ করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে। ইসরাইল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, লেবাননে তাদের কোনো ভূখণ্ডগত আকাঙ্ক্ষা নেই।’
তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে ই-মেইলে বলেন, ‘দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি কাঠামোটিতে দেয়া প্রতিশ্রুতি অথবা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক এবং লেবানন-ইসরাইল চুক্তি স্বাক্ষরের পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে লেবানন এখনো ইসরাইলের বিক্ষিপ্ত হামলা ও অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞের কথা জানাচ্ছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ন্যাশনাল নিউজ অ্যাজেন্সি (এনএনএ) বুধবার জানায়, ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এসব গ্রামের মধ্যে জাওতার আল-শারকিয়াও রয়েছে। গ্রামটি ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলোর’ একটির সীমানায় অবস্থিত।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, ইসরাইল জাওতার আল-শারকিয়ার ‘পৌর ভবন’ উড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ‘একটি সরকারি স্কুল, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি’ ধ্বংস করেছে।
এদিন লেবাননের সেনাপ্রধান রোদলফ হায়কাল সফররত মার্কিন জেনারেল জোসেফ ক্লিয়ারফিল্ডের সাথে বৈঠক করেন। জুনের চুক্তি বাস্তবায়নে গঠিত সমন্বয়কারী দলের প্রধান হিসেবে ক্লিয়ারফিল্ড দায়িত্ব পালন করছেন।
লেবাননের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি এবং চুক্তির সাথে সম্পর্কিত ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত হামলা, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সেনাবাহিনী তার দায়িত্ব পালনে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে’, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও ক্লিয়ারফিল্ডের সাথে বৈঠক করেন। তার দফতর জানায়, তারা কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল আগামী মাসে রোমে অষ্টম দফা আলোচনা করবে।
সূত্র: বাসস


