দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়ালো

এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল। দেশটিতে কমপক্ষে ১৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েকদিনের ভয়াবহ বন্যায় ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ২৫০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

মৌসুমি ভারী বর্ষণ ও ক্রান্তীয় ঝড়ের প্রভাবে তিন দেশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বৃষ্টির পানি জমেছে, অনেক মানুষ ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে লাশ রাখার জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় বাড়তি লাশ রাখতে রেফ্রিজারেটেড ট্রাক আনা হচ্ছে।

সুমাত্রার কর্মকর্তারা জানান, এই সপ্তাহে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১১১ জন মারা গেছেন এবং প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উত্তর সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান বলেন, কর্তৃপক্ষ বর্তমানে উদ্ধার ও সহায়তা প্রদানে মনোনিবেশ করেছে। কিছু এলাকায় এখনো পৌঁছানো যায়নি।

তিনি আরো বলেন, ‘আশা করি আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখন আমরা হেলিকপ্টার নিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে পারব।’

এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল। শুক্রবার সরকারি মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে কমপক্ষে ১৪৫ জন নিহত হয়েছেন। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় দুর্যোগের চিত্র আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল সোংখলা প্রদেশ। প্রদেশের সোংক্লানাগারিন্ড হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের লাশ গ্রহণের জন্য আর জায়গা নেই এবং তারা এখন রেফ্রিজারেটেড ট্রাকের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে মালয়েশিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দুইজন নিহত হয়েছেন। প্রবল বষর্ণে উত্তরাঞ্চলের পার্লিস রাজ্যের কিছু অংশ পানিতে ডুবে গেছে।

সূত্র : এএফপি