মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকবে বেইজিং : চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেছেন, মিয়ানমারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বেইজিং ‘দৃঢ়ভাবে’ তাদের পাশে থাকবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সাথে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সাথে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী |সংগৃহীত

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেছেন, মিয়ানমারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বেইজিং ‘দৃঢ়ভাবে’ তাদের পাশে থাকবে। জান্তাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

এ সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সফর করছেন ওয়াং। বিদ্যমান ‘ঝুঁকি’র মুখে আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে আরো স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করাই তার এই সফরের লক্ষ্য।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, রাজধানী নেপিদোয় মিন অং হ্লাইংয়ের সাথে বৈঠকে ওয়াং বলেন, মিয়ানমার যাতে নিজস্ব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট উন্নয়নের পথ তৈরি করতে পারে সে লক্ষ্যে বেইজিং সহায়তা করবে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছর চলছে। উভয় পক্ষের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা।

চলতি মাসে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর তিনি এবার বেসামরিক পদে থেকে শাসন অব্যাহত রেখেছেন।

শপথ গ্রহণের সংসদীয় অনুষ্ঠানে চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা-সমর্থিত এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিল চীন।

অবশ্য জানুয়ারিতে শেষ হওয়া এই নির্বাচনকে ‘সামরিক শাসনকে বেসামরিক রূপ দেয়ার কৌশল’ বলে বর্ণনা করেছেন গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকরা। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। তারা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে সেসব এলাকায় ভোটগ্রহণই হয়নি।

বৈঠকে ওয়াং আরো জানান, অনলাইন জুয়া ও টেলিযোগাযোগ প্রতারণার ‘অভিশাপ সম্পূর্ণ ও দৃঢ়ভাবে নির্মূলে’ মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত চীন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার প্রতারণার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো শুরুতে মূলত চীনা ভাষাভাষীদের টার্গেট করত। পরে তাদের পরিধি আরো বেড়ে যায়। এখন বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বছরে হাজার কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

সূত্র: বাসস