থাইল্যান্ডে ট্রেনের ওপর ক্রেন ভেঙে পড়ে নিহত ২২

ব্যাংকক থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক টনি চেং জানান, ট্রেনটি একটি উচ্চগতির রেললাইন নির্মাণস্থলের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ওপর থেকে একটি ক্রেন ভেঙে পড়ে। ক্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন জ্বলে ওঠে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন
থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন |এপি

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন প্রকল্পের ক্রেন ভেঙে পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত ও অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে উবোন রাতচাথানি প্রদেশে যাচ্ছিল ট্রেনটি।

থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাতচাকিতপ্রাকর্ন এক বিবৃতিতে জানান, ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, ক্রেনের আঘাতে ট্রেনের তিনটি বগির মধ্যে দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিহতদের বেশিরভাগই ওই দুটি বগির যাত্রী।

ব্যাংকক থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক টনি চেং জানান, ট্রেনটি একটি উচ্চগতির রেললাইন নির্মাণস্থলের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ওপর থেকে একটি ক্রেন ভেঙে পড়ে। ক্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আগুন জ্বলে ওঠে।

প্রথমদিকে নিহতের সংখ্যা চার বলা হলেও পরে তা দ্রুত বেড়ে ১২ এবং সর্বশেষ ২২ জনে পৌঁছেছে বলে থাই পুলিশ জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ চলছে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিত্র ইনত্রপানিয়া (৫৪) জানান, সকাল প্রায় ৯টার দিকে তিনি ওপর থেকে কিছু ভারী বস্তু নিচে পড়ার মতো বিকট শব্দ ও পরপর দুটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পান। পরে গিয়ে তিনি দেখেন, একটি বিশাল ক্রেন যাত্রীবাহী ট্রেনটির ওপর পড়ে আছে। ক্রেনের ধাতব অংশ ট্রেনের দ্বিতীয় বগির মাঝখানে আঘাত করে সেটিকে প্রায় দ্বিখণ্ডিত করে দেয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়া এই রেলপথটি উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য বহুল ব্যবহৃত। একই সঙ্গে এই পথেই চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন উচ্চগতির রেল প্রকল্পের কাজ প্রায় এক দশক ধরে চলমান রয়েছে। নির্মাণাধীন কংক্রিট স্তম্ভের ওপর কাজ করা ক্রেনটি সেখান থেকেই নিচে পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা