২০২৮ সালের জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের কথা ভাবছে চীন

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলায় নিজেদের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি আরো শক্তিশালী করতে ২০২৮ সালের জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩৩) আয়োজনের জন্য চীন প্রস্তাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চীনের পতাকা
চীনের পতাকা |ফাইল ছবি

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলায় নিজেদের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি আরো শক্তিশালী করতে ২০২৮ সালের জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩৩) আয়োজনের জন্য চীন প্রস্তাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’টি সূত্র শুক্রবার (২১ আগস্ট) বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে কপ-৩৩ আয়োজনের বিষয়ে চীন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সিদ্ধান্ত নেয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমাও ঠিক হয়নি। চলতি বছরই সম্মেলনের আয়োজক দেশ নির্ধারণ করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।

চীনের এই আগ্রহের খবর প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ নিউজ।

জাতিসঙ্ঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের মধ্যে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের কপ-৩১ তুরস্কে এবং ২০২৭ সালের কপ-৩২ ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৮ সালের সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পড়বে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর।

গত এপ্রিল মাসে ভারত কপ-৩৩ আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। তবে কেন প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা জানায়নি দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়াও এর আগে সম্মেলনটি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনের এই সম্ভাব্য উদ্যোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সচিবালয় এএফপিকে জানিয়েছে, কপ-৩৩-এর আয়োজক দেশ হিসেবে কোনো দেশের নাম এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক জোট তাদের জানায়নি।

সচিবালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দেশ আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর আঞ্চলিক জোটের চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসঙ্ঘের সচিবালয়ে আয়োজক দেশের নাম প্রস্তাব করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে নিজেদের অবস্থানকে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরছে চীন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বেরিয়ে গেছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জাতিসঙ্ঘের জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন করা চীনের জন্য নিজেদের জলবায়ু নেতৃত্বের দাবি আরো জোরালো করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। দেশটি সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি রফতানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কও বিবেচনায়
তবে সম্মেলন আয়োজন করলে চীনকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজের রেকর্ড নিয়েও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে। ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং বিশাল শিল্প উৎপাদনের কারণে চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

চীন ২০৬০ সালের আগে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, কপ-৩৩ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনার সময় চীন যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের গতি-প্রকৃতিও হিসাব করছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ২০২৮ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে কপ-৩৩ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে জলবায়ু সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সম্মেলনটি সম্ভবত ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক দিন পর অনুষ্ঠিত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই৩জি-এর বিশেষজ্ঞ অ্যালডেন মেয়ার এএফপিকে বলেন, গত ৩৫ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক কখনো অগ্রগতির, আবার কখনো উত্তেজনার কারণ হয়েছে। আগামী মার্কিন নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: বাসস