চীন ও জাপানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়ে মার্কিন নীরবতায় হতাশ টোকিও

টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়ে মার্কিন নীরবতায় জাপান হতাশ হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি |পার্সটুডে

টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়ে মার্কিন নীরবতায় জাপান হতাশ হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।

জাপান সরকার টোকিও এবং বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়ে মার্কিন সরকারের নীরবতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির অবস্থানের প্রতি আরো প্রকাশ্য এবং দৃঢ় সমর্থন প্রদর্শনের জন্য ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে; তাইওয়ান দ্বীপে সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের নিরাপত্তা পরিণতি সম্পর্কে তার বক্তব্যের পর উত্তেজনা আরো তীব্র হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে চীনের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন এবং তাইওয়ানের নিরাপত্তার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের পর জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর সমর্থনে হতাশ হয়েছে। কারণ তারা আশা করেছিল যে ওয়াশিংটন টোকিওর সাথে খোলামেলা ও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। কিন্তু আমেরিকান কর্মকর্তাদের অবস্থান এই ধারণা তৈরি করেছে যে চীনের সাথে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ জাপানের প্রতি তার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে ঢেকে দিয়েছে।

টোকিও বিশ্বাস করে যে মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাপানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট নন, বিশেষ করে তাকাইচির কথার প্রতি চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর পর। এই প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিগেও ইয়ামাদা ট্রাম্প প্রশাসনকে টোকিওর প্রতি জনসমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জাপানি কর্মকর্তা বলেছেন, নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার সম্পর্কে টোকিওর কোনো সন্দেহ নেই। তবে ঊর্ধ্বতন আমেরিকান কর্মকর্তাদের থেকে জনসমর্থনের অভাবের কারণে তারা গভীরভাবে হতাশ।

জাপানবিষয়ক হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার জনস্টন বলেছেন, ওয়াশিংটনের তাকাইচির মন্তব্যকে স্বাগত জানানো উচিত ছিল। কারণ চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে জাপানের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য এটি। কিন্তু টোকিওতে মার্কিন দূতাবাসের বার্তা ছাড়াও তাকাইচির মন্তব্য সম্পর্কে মার্কিন সরকার প্রায় সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে।

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন এসেছে জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসের কাছ থেকে যিনি গত মাসে বলেছিলেন যে ট্রাম্প এবং তার দল তাকাইচিকে সমর্থন করে। কিন্তু এর বাইরে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকাশ্য সমর্থন পাওয়া যায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দলকে এমন কোনো পদক্ষেপ এড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন যা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার বাণিজ্য চুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে ওয়াশিংটন টোকিওকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার বিষয়ে সতর্ক থাকার এটাই মূল কারণ। ওয়াশিংটন এমন কোনো পদক্ষেপ এড়াতে পছন্দ করে যা বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বিপন্ন করতে পারে।

গত ৭ নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি পার্লামেন্টে মন্তব্য করার পর থেকে বেইজিং এবং টোকিওর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনা সামরিক পদক্ষেপের পরিস্থিতি সম্পর্কে এক বিরোধী আইনপ্রণেতার প্রশ্নের জবাবে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানের উপর চীনা আক্রমণ জাপানের ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ‘আত্মরক্ষা বাহিনীর’ কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন হবে। সুতরাং তার মতে, তাইওয়ানের উপর চীনা আক্রমণ জাপানের জন্য একটি অস্তিত্বগত হুমকি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে টোকিও তার সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে।

সূত্র : পার্সটুডে