ইন্দোনেশিয়ায় পূর্বাঞ্চলে শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এক নারী ও এক পুরুষ নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণঘাতী ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল, কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা অনুসারে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ১০ কিলোমিটার গভীরে একটি অগভীর ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার পরে দু’টি আফটারশক হয়, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬.১।
দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পাঞ্জাইতান জানান, ‘এই মুহূর্তে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।’
তিনি আরো জানান, কর্তৃপক্ষ এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নির্ধারণ করছে।
মার্কিন ও ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলের কাছে, উপকূলীয় শহর এন্ডে থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার (৪২ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের এলাকা নাগেকেও জেলার বাসিন্দারা ভূমিকম্পের পরপরই উঁচু স্থানে ছুটে যান।
৩১ বছর বয়সী হাসপাতালের গ্রাহক পরিষেবা কর্মকর্তা লুকাস লোটার বলেন, ‘হঠাৎ করে এটা কাঁপতে শুরু করল এবং আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। রোগীরাও হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেল, ঝাঁকুনিটা বেশ জোরাল ছিল। আমি দেখলাম কিছু দেয়ালে ফাটল ধরেছে।’
নাগেকেওর বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী ইয়োহানেস বাবো বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি বাজারে ছিলেন। কম্পনটা প্রচণ্ড ছিল। ভাগ্যক্রমে তারা আগেই বাড়ির বাইরে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিল। আমরা আপাতত নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছি... এবং পাহাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমার পরিবার নিরাপদ আছে। কেউ আহত হয়নি।’
কর্তৃপক্ষ একটি সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) জানায়, পর্যবেক্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠের এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি যা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি পরিচালক বিজয়ন্ত বলেন, ‘আমরা (সুনামি সতর্কতা) তুলে নিয়েছি, কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ওপর নজর রাখব।’
ইন্দোনেশীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, নিকটবর্তী নাগেকেও রিজেন্সিতে শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ দ্বারা বেষ্টিত এলাকা থেকে সরে যাচ্ছেন।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের অন্তর্গত সিক্কা অঞ্চলের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু বলেন, তীব্র কম্পনে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আতঙ্কিত মানুষ উঁচু স্থানে ছুটে গেছে।
এর পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রের তলদেশের এই ভূমিকম্পের ফলে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপপুঞ্জ বা অঞ্চলগুলোর জন্য কোনো সুনামির হুমকি থাকবে না।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত বিশাল দ্বীপপুঞ্জ ইন্দোনেশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকায় অবস্থিত আগ্নেয়গিরি ও ফল্ট লাইনের একটি বৃত্তচাপ ‘রিং অফ ফায়ার’-এর উপর অবস্থানের কারণে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিপূর্ণ।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


