যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার পঞ্চম দফা আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের গতি এবং এলাকা নির্ধারণ নিয়ে মূল বিরোধ তৈরি হওয়ায় দুই দিনব্যাপী এই বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যায়।
বুধবার (২৪ জুন) আলোচনার দ্বিতীয় তথা শেষ দিনটি পার হলেও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইতিবাচক পরিবেশের দাবি করলেও মূল সঙ্কটের কোনো সমাধানই হয়নি।
বৈঠকে মূলত দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘টেস্ট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা তৈরির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। এই এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা সাময়িকভাবে সরে যাবে এবং লেবানন সেনাবাহিনী সেখানকার পূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব নেবে।
তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো পর্যালোচনা চলছে এবং এর জন্য তেল আবিবের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
লেবাননের পক্ষ থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ঘরে ফেরা এবং বন্দীদের মুক্তির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের বরাতে জানা গেছে, ইসরাইল কেবল আংশিক প্রত্যাহারে রাজি হলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে পুরোপুরি সেনা সরাতে একেবারেই ইচ্ছুক নয়।
এই আলোচনার মাঝেই লেবাননে ড্রোন হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননের কাফর রুমান এলাকায় ড্রোন হামলায় দু’জন নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, গত ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ে ইসরাইল আবারো লেবাননের নাগরিকদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের এই ব্যাপক আগ্রাসনে লেবাননে এখন পর্যন্ত চার হাজার ২১১ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
সূত্র: ইরনা



