দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির পূর্ব উপকূলে নিখোঁজ এক নাবিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই কোরিয়ার মধ্যকার সামুদ্রিক সীমারেখার কাছে টহলরত অবস্থায় রোববার (১২ জুলাই) ওই নাবিক নিখোঁজ হন।
নৌবাহিনী জানায়, রোববার সকালে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত না হওয়ায় নাবিকের খোঁজে ১০টি জাহাজ ও বিমান নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। সে সময় টহল জাহাজটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কার্যত সামুদ্রিক সীমারেখা নর্দার্ন লিমিট লাইন (এনএলএল) এর কাছে অবস্থান করছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেয়া একটি টহল নৌযান গেওজিনের প্রায় ৫২ কিলোমিটার পূর্বে নিখোঁজ নাবিকের লাশ উদ্ধার করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, ওই নাবিক উত্তর কোরিয়ার সীমান্তরেখা (এনএলএল) পেরিয়ে ভেসে যেতে পারেন এমন আশঙ্কার পর নৌবাহিনী মানবিক কারণে তার অনুসন্ধান ও তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়েছিল।
তবে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লাশটি একটি ফ্রিগেট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি সোমবার দিনের পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের দোংহে নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিক কিভাবে নিখোঁজ হলো এবং তার মৃত্যুর কারণ জানতে বেসামরিক পুলিশ ও সামরিক তদন্তকারীরা যৌথভাবে তদন্ত করবেন।
ইয়োনহাপ নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, নিহত নাবিক শিক্ষানবিশ নাবিক পদে কর্মরত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সাথে সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং।
২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লি উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছেন। যা তার পূর্বসূরির কঠোর অবস্থান নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
তবে মস্কোর সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করার পাশাপাশি সিউলের বারবার সংলাপের আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানিয়ে একটি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করে উত্তর কোরিয়া।
সূত্র: বাসস



