ফিলিপাইনে আবর্জনার স্তূপ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪

ফিলিপাইনের সেবু সিটিতে একটি ল্যান্ডফিলে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে; ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান চললেও এখনো ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে শনিবারও উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে শনিবারও উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ |সংগৃহীত

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে একটি ল্যান্ডফিলে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে শনিবারও উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সেবু সিটির বেসরকারি পরিচালিত বিনালিউ ল্যান্ডফিলে বৃহস্পতিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিটি কাউন্সিলরের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ২০ তলা ভবনের সমান উচ্চতা থেকে আবর্জনা ধসে পড়ে। এই ঘটনায় প্রায় ৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে।

হার্ড হ্যাট পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে আরো ধসের আশঙ্কায় বারবার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানান সেবুর উদ্ধারকর্মী জো রেয়েস।

তিনি বলেন, ‘ল্যান্ডফিলটি মাঝে মাঝেই নড়াচড়া করছে। উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হচ্ছে।’

দুর্গম এলাকা ও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে দুর্ঘটনাস্থল থেকে তথ্য আসতে দেরি হচ্ছে।

সেবু সিটি কাউন্সিলর জোয়েল গারগানেরা জানান, এই ঘটনায় শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনের দাঁড়িয়েছে। নিহতরা সবাই দুর্ঘটনার সময় স্থাপনার ভেতরে ছিলেন। সেখানে কর্মীদের জন্য থাকা স্টাফ হাউসগুলোতেই বেশিভাগ মানুষ অবস্থান করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ভারী ইস্পাতের অংশ ও ওপরের আবর্জনার চাপে ধ্বংসস্তূপ বারবার নড়ছে। এতে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’

তবে এখনই লাশ উদ্ধারে না গিয়ে, আবর্জনার নিচে চাপা পড়া জীবিত উদ্ধারের আশাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কারণ চাপা পড়াদের অনেকের পরিবারের উদ্বিগ্ন সদস্যরাই ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করছেন।

এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গারগানেরা ল্যান্ডফিলের উচ্চতাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘বৃষ্টির সময় সেবু শহরের আশপাশে প্রায়ই ভূমিধস হয়। এই আবর্জনা স্পঞ্জের মতো পানি শোষণ করে। তাই এ সময়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।’

পুলিশের প্রকাশিত একটি ছবিতে পাহাড়ের ওপর বিশাল আবর্জনার স্তূপ, আর এর পেছনেই প্রশাসনিক ভবনসহ কয়েকটি স্থাপনা দেখা গেছে।

সেবু সিটি কাউন্সিলর আরো জানান, দুর্ঘটনাটি শহরের জন্য ‘দ্বিগুণ বিপর্যয়’। কারণ এটি সেবু ও এর আশপাশের এলাকার একমাত্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।

ল্যান্ডফিলের অপারেটর প্রাইম ইন্টিগ্রেটেড ওয়েস্ট সলিউশনস-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টন পৌর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

তবে কোম্পানির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে, ঘটনাস্থলে কর্মরত কম্প্যাক্টর অপারেটর রিটা কো গাই জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগে তিনি পানি পান করতে বাইরে গিয়েছিলেন।

৪৯ বছর বয়সী রিটা বলেন, ‘বিকট আওয়াজ শুনে আমি ভেবেছিলাম যে কোনো হেলিকপ্টার বোধহয় ধসে পড়েছে। কিন্তু ঘুরে তাকিয়ে, দেখি বিরাট আবর্জনার স্তুপ আর ভবন একসাথে ধসে পড়ছে।’

সূত্র : বাসস