মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে জাপান সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আজ শুক্রবার দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
জিজি প্রেসসহ জাপানের গণমাধ্যমগুলো এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শিল্প মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি ঘোষণা করতে চলেছে।
দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা তাকাহাইডে সোয়েদা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রতিবেদিত তথ্যটি সঠিক’ এবং আজ একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বৈঠকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের আগে থেকেই প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনকারী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পরিচালন হার ৫০ শতাংশ বা তার নিচে রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল।
তিনি বলেন, তবে সরকার এখন এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছর থেকে এক বছরের জন্য পুরোনো, কম কার্যকর কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণমাত্রায় চালুর অনুমতি দিতে চায়।
গত মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর জ্বালানি বাণিজ্য পথটি আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। অনেক এশীয় দেশ তাদের অর্থনীতিকে শক্তি জোগাতে কয়লার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুতের খরচ কম রাখতে ফিলিপাইনও তার কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
জাপান তার বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ মেটাতে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে এবং এগুলো চালানোর জন্য কয়লা একটি প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, জাপান তার তেল সরবরাহের একটি বড় অংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল হলেও, দেশটি তার কয়লা আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ক্রয় করে।
জাপান গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, তারা তাদের কৌশলগত তেল মজুদের আরো একটি অংশ ছাড়তে শুরু করেছে। দেশটি তার তেল আমদানিতে সরবরাহ সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে, যার ৯০ শতাংশই সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।
সূত্র: বাসস



