কাতারের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (৬ মার্চ) জানিয়েছে, তারা দেশটিতে সীমিত বিমান চলাচলের জন্য অনুমতি দিয়েছে।
মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকা কাতারের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়ার পর দেশটি এ ঘোষণা দেয়।
কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে যে, কাতারের আকাশপথ আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে। সীমিত সক্ষমতাসহ নির্ধারিত জরুরি বা বিকল্প রুটের মাধ্যমে বিমান চলাচল পরিচালিত হবে।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, এই পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যা মূলত যাত্রী উদ্ধারের জন্য নির্ধারিত থাকবে। এছাড়া এয়ার কার্গো ফ্লাইটও চালু থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সঙ্ঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলের তুলনামূলক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে, যা পর্যটকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। নিরাপদ ছুটির গন্তব্য ভেবে যারা এসেছিলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা ও অনিরাপত্তা তাদের ভ্রমণে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এক বিবৃতিতে কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, নিরাপদ ফ্লাইট করিডোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার মার্চ লন্ডন, প্যারিস, মাদ্রিদ, রোম ও ফ্রাঙ্কফুর্টে পুনরুদ্ধার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
তারা আরো জানিয়েছে যে, আটকে পড়া পরিবার, বয়স্ক যাত্রী ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকা ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
কাতারের প্রধান বিমানবন্দর হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিশ্চিত করেছে, শুধুমাত্র আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার ও এয়ার কার্গো পরিচালনার জন্য শনিবার সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সঙ্কটের কারণে ফ্লাইট বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফ্লাইট সূচি পুনঃনির্ধারণ করবে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে ১০টি ইরানি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে নয়টি তাদের সামরিক বাহিনী প্রতিহত করেছে এবং একটি জনবসতিহীন এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে মঙ্গলবার কাতার সরকার জানিয়েছে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ইরানের হামলার লক্ষ্য করা হয়, তবে সবগুলো হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস


