যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় কালো তালিকার বিরুদ্ধে এবার পাল্টা ও কঠোর আঘাত হানলো চীন। বেইজিংয়ের প্রধান প্রধান কোম্পানিকে মার্কিন সামরিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশোধ হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন।
এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে আমেরিকার রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ উৎপাদক এবং ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা খাতের সাথে যুক্ত বেশকিছু বড় কোম্পানি।
জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে দুই পরাশক্তির মধ্যে যখন একে অপরের কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রতিযোগিতা চলছে, ঠিক তখনই বেইজিংয়ের এই বড় পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধকে আরো উসকে দিলো। ইরানের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি এই খবর জানিয়েছে।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার পরিষ্কার জানিয়েছে যে, তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক থাকা ১০টি মার্কিন এনটিটি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের রফতানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় যুক্ত করেছে। এর ফলে অ্যাভিওক্সের মতো বিশেষায়িত মোটর নির্মাতা কোম্পানি এবং এমপি মেটেরিয়ালস ও ইউএসএ রেয়ার আর্থের মতো বিরল খনিজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধাক্কা খেল।
এখন থেকে কোনো চীনা রফতানিকারক এসব মার্কিন কোম্পানিকে ডুয়াল-ইউজ বা দ্বিমুখী ব্যবহারের পণ্য ও প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে না, যা বেসামরিক এবং সামরিক উভয় কাজেই ব্যবহার করা যেত।
বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, মার্কিন সরকারের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের জবাব দিতে এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একইসাথে চীনা রফতানিকারকদের ওইসব মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে চলমান সব ধরনের লেনদেন অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি চীনের ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি বা অর্থ মন্ত্রণালয় আরো ৪৬টি মার্কিন কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নিয়মে চীনা ক্রেতারা এখন থেকে ওই ৪৬টি কোম্পানির তৈরি কোনো পণ্য কিনতে পারবে না। তবে চীনে ব্যবসা পরিচালনা করা মার্কিন অর্থায়নে গড়ে ওঠা এন্টারপ্রাইজ বা প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে এবং তারা স্বাভাবিক কেনাকাটা চালিয়ে যেতে পারবে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনের নেয়া এক বিতর্কিত পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবেই বেইজিং এই ব্যবস্থা নিলো। যুক্তরাষ্ট্র তখন বেইজিংয়ের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ এনে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ, সার্চ ইঞ্জিন অপারেটর বাইদু এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল বা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ও নিও-র মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
মার্কিন প্রশাসনের এমন একপেশে পদক্ষেপের পর গত ১৩ জুন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের এই ভুল আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বেইজিং পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের কোম্পানিগুলোর সাথে ন্যায্য আচরণ করা না হলে তারাও কঠোর প্রতিশোধ নেবে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে পেন্টাগন সরাসরি বা কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর পণ্য বা সেবা আর কিনতে পারবে না। পেন্টাগনের এই নতুন তালিকাটি ২০২৫ সালের শুরুর দিকের তালিকাকে প্রতিস্থাপন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেইজিংয়ে মুখোমুখি বৈঠকের মাত্র এক মাস পরেই পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ এবং তার জবাবে চীনের এই তীব্র পাল্টা আঘাতের ঘটনা ঘটল।
সূত্র : প্রেসটিভি



