আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করবে; রাশিয়ার হামলার মাধ্যমে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউক্রেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি |সংগৃহীত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলে আজ শনিবার জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকায়, সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই দ্রুত নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি ভাবছেন তিনি।

গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন তাকাইচি। বর্তমানে তার মন্ত্রিসভার জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশ বলে জরিপে উঠে এসেছে।

তবে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তার নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত, যার ফলে তার উচ্চাভিলাষী নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

ইয়োমিউরি ও মাইনিচি পত্রিকা সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, ২৩ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতেই নিম্নকক্ষ ভেঙে দেয়ার কথা ভাবছেন তাকাইচি।

ইয়োমিউরি জানায়, এমনটি হলে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মধ্যভাগের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তাকাইচির প্রশাসনের ভেতরে একটি শক্ত মত রয়েছে যে সমর্থন হারানোর আগেই পার্লামেন্ট ভেঙে নির্বাচন দেয়া উচিত, যাতে করে সরকারের ভিত্তি আরো শক্ত করা যায়।

তিনজন সংসদ সদস্য এলডিপিতে যোগ দেয়ার পর তার দল লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি গত নভেম্বর মাসে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

তবে উচ্চকক্ষে এখনো ক্ষমতাসীন জোটের সংগরিষ্ঠতা নেই।

ইয়োমিউরি জানায়, বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাকাইচি আরো সক্রিয় রাজস্ব ব্যয় নীতি ও শক্তিশালী গোয়েন্দা সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

এতে চীনের সাথে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থাও কাটতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

গত নভেম্বরে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি কখনো তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং এরপর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে চীন জাপানে সামরিক কাজে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ পণ্যের রফতানিতে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

পাশাপাশি চীন জাপানে বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ রফতানিও সীমিত করছে বলে জানা গেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানয়ে তাকাইচি গত মাসে বলেছেন, তিনি চীনের সাথে আলোচনা বা সংলাপের জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র : বাসস