প্রযুক্তি খাতের উত্থানে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি

প্রযুক্তি খাতে গত এক মাসের তীব্র অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সিউলের বাজার ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। টোকিওর বাজারে বেড়েছে ৩ শতাংশ। তাইপেইর বাজারেও ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া হংকং, সাংহাই, সিডনি, ওয়েলিংটন ও জাকার্তার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শেয়ারবাজার
শেয়ারবাজার |ফাইল ছবি

ওয়াল স্ট্রিটে নতুন রেকর্ড গড়ার ধারাবাহিকতায় বুধবারও (৫ আগস্ট) এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এক মাসের পতনের পর প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে পুনরুদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে- এমন আশাবাদও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বাজার ঊর্ধ্বগতির ধারা থেমে যেতে পারে- এমন আশঙ্কায় গত চার সপ্তাহ ধরে বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া জোরালো পুনরুদ্ধারের ধারায় তারা আবারো এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং ডেটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের শক্তিশালী আয় ও ইতিবাচক পূর্বাভাস প্রযুক্তি খাতে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগ এবং এর লাভ সংক্রান্ত নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।

মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই বেড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোন্স নতুন রেকর্ড গড়েছে। একইসাথে প্যারিস, মিলান, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মাদ্রিদের বাজারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এই ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে গত এক মাসের তীব্র অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সিউলের বাজার ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উত্থানের সুবিধাভোগী টোকিওর বাজার বেড়েছে ৩ শতাংশ। তাইপেইর বাজারেও ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এছাড়া হংকং, সাংহাই, সিডনি, ওয়েলিংটন ও জাকার্তার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

প্রযুক্তি খাতের ব্যাপক বিক্রির পর এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের সাথে প্রযুক্তি শেয়ারের বিক্রির চাপে সিউলের বাজার জুনের রেকর্ড উচ্চতা থেকে ৪০ শতাংশের বেশি নেমে গিয়েছিল।

এই পতনের নেতৃত্বে ছিল চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং। নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে তাদের শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

গত শুক্রবার দরপতনের সুযোগে কেনাকাটা এবং ইতিবাচক আয় প্রতিবেদনের কারণে কসপি সূচক প্রায় ১৮ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ৩০ শতাংশ বেড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতির আশা থেকেও এ সপ্তাহে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। সপ্তাহের হিসাবে কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে তেহরানের সাথে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে।

সিটি ইনডেক্সের জুলিয়ান পিনেদা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ আর্থিক বাজারের জন্য সাম্প্রতিক কয়েকটি অধিবেশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে কর্মকর্তাদের মন্তব্য সরাসরি বাজারের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমায় ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমেছে।’

পিনেদা বলেন, ‘এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কাও কমেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ ফিরছে।’

আইজি মার্কেটসের টনি সাইকামোর বলেন, ‘ঝুঁকির ভারসাম্য আবারো ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার দিকে ঝুঁকছে বলে মনে হচ্ছে।’

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ হ্রাস পেয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশাও বিনিয়োগকারীরা কমিয়ে এনেছেন।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন। এসব তথ্য থেকে দেশটির অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যাবে এবং ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণে সহায়ক হবে।

সূত্র: বাসস