জাপানের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন করে শুল্ক আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। ওয়াশিংটনের নতুন এই শুল্ক তালিকায় অন্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের পাশাপাশি টোকিওকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাপানের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে জাপানে নিষেধাজ্ঞা নেই- শুধু এই কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করায় আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করছি।’
এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
কিহারা আরো বলেন, ‘গত বছরের চুক্তিটি সার্বজনীনভাবে কার্যকর থাকবে- এ বিষয়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অভিন্ন বোঝাপড়া রয়েছে। উভয়পক্ষই ওই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র জাপানের ওপর গত বছরের চুক্তির শর্তের বাইরে অতিরিক্ত কোনো শুল্ক আরোপ করবে না- এ বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাব।’
জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হলো।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বেশ কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে। এরপর ট্রাম্প ভিন্ন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে আমদানিপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক পুনরায় চালু করেন। ওই শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হচ্ছে।
এর আগে, জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৯ সালের মধ্যে ৫৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও এই প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় বলা হয়, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বা তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর তুলনামূলক কম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ও যুক্তরাজ্য।
অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আরো বেশ কিছু দেশকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।



