ইন্দোনেশিয়ায় শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখন তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্প ও পরবর্তীতে কয়েক ডজন আফটারশকের কারণে সেখানকার শত শত ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এ দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পরিষ্কার নয় কর্তৃপক্ষের কাছে।
এর মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার আরেক প্রান্তে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।
এটিই অনেককে মনে করিয়ে দিয়েছে যে কেন এই অঞ্চলকে ‘রিং অব ফায়ার’ বা ‘অগ্নিবলয়’ বলা হয়।
শনিবারের শক্তিশালী ভূ-কম্পন পশ্চিমে বিমা রিজেন্সি ও সিটি পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ।
তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাংগারাই প্রদেশ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রদেশে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পূর্ব মাংগারাই প্রদেশে ১৭ জন, সিক্কা প্রদেশে তিনজন এবং এনগাদা, এন্ডে ও পশ্চিম মাংগারাই প্রদেশে অন্তত একজন করে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া অন্তত দু’জন গুরুতর আহত এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৫০০টি ত্রাণ প্যাকেজ বেস অপারেশন কেন্দ্রে পৌঁছেছে।
এই অঞ্চলটি দুর্গম ও পাহাড়ি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা নিরূপণ করতে সময় লাগবে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১৫০টিরও বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া কয়েক ডজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয়, সরকারি অফিস এবং অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্লোরেসের বৃহত্তম শহর মাউমেরের বন্দরে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের বড় বড় কংক্রিটের অংশ ভেঙে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর পড়ছে।
একটি জাহাজের সাথে যুক্ত গ্যাংওয়ে ভেঙে পড়লে কয়েকজন যাত্রী সাগরেও ছিটকে পড়েন।
পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ধসে পড়া ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তোর মতো অন্যরা অবশ্য ঘুম থেকে ঝাঁকুনি খেয়ে জেগে ওঠেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমি ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে আমার সন্তানের ঘরে চলে যাই।’
তিনি আরো জানান, সমুদ্রের পানি অনেকটা সরে যাওয়ায় অনেক মানুষ ইতোমধ্যে পাহাড়ের দিকে চলে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর ফলে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে সরে যান।
তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়, কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উল্লেখযোগ্য কোনো উচ্চতা বৃদ্ধি দেখা যায়নি।
তবে ভূমিধ্বসের কারণে কিছু গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দলগুলো দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে।
রুটেং শহরে ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী চিকিৎসা তাঁবুও স্থাপন করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা যেসব পরামর্শ দিয়েছে তা হলো- আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে এবং উপকূলীয় এলাকা ও যেসব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ একটি দেশ। কারণ দেশটি তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলের ওপর অবস্থিত।
সূত্র : বিবিসি



