দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে যাচ্ছেন। তবে তার এই সফরকে ঘিরে এক অস্বস্তিকর বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সবার নজর এখন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের বৈঠকের দিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত চললেও ট্রাম্পের সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। কারণ একটি অগ্রবর্তী দল ইতোমধ্যে বেইজিংয়ে অবস্থান করছে।
বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতির দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যেসব বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে-
বাণিজ্য ও বাজার ব্যবস্থা
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্রান্সউইকের ক্রিস্টোফার প্যাডিলা জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত চীন থেকে বিমান, কৃষি পণ্য ও জ্বালানি কেনার ওপর গুরুত্ব দেবে। এছাড়া একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন কোন পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে রফতানি হবে বা চীন থেকে আমদানি করা হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা যাবে। এটি মূলত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মতো কম সংবেদনশীল খাতে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে।
শুল্ক বিরতি
প্যাডিলা মনে করেন, চীন সম্ভবত ট্রাম্পের সাথে চলমান শুল্ক বিরতির মেয়াদ আরো বাড়াতে চাইবে। এক বছর আগে দুই দেশ একে অপরের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেও গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক বৈঠকে ট্রাম্প ও শি এক বছরের জন্য বাণিজ্য যুদ্ধ স্থগিত করতে রাজি হন। তবে সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট মাদক চোরাচালান সংক্রান্ত কিছু শুল্ক বাতিল করায় এবং ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে তদন্ত শুরু করায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ফলে এই বিরতি কতটুকু কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইরান ইস্যু
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের ছায়া ট্রাম্পের এই সফরেও পড়ছে। যুদ্ধের কারণে তিনি একবার সফর স্থগিত করেছিলেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইবেন চীন যেন ইরানকে একটি চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দেয়। এছাড়া বেইজিং ইরান থেকে তেল কেনা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেয়ার আর্থ বা দুষ্প্রাপ্য খনিজ
বিশ্বজুড়ে দুষ্প্রাপ্য খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ’ উৎপাদনে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। সামরিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তৈরিতে এই খনিজ অপরিহার্য।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাস বলেন, ট্রাম্প চীনের ওপর এই খনিজের নির্ভরতা কমাতে সময় নিচ্ছেন। অন্যদিকে অস্ত্র তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই খনিজ প্রয়োজন হওয়ায় চীন যেন রফতানি বন্ধ না করে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
তাইওয়ান সঙ্কট
স্বশাসিত তাইওয়ান ইস্যুতেও শি জিনপিং ট্রাম্পের ওপর চাপ দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। ট্রাম্পের ‘লেনদেনভিত্তিক’ কূটনৈতিক কৌশলের কারণে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সুরক্ষার বিনিময়ে তাইওয়ানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ প্রদান করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং তাইওয়ান ইস্যুতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দরকষাকষি করবে।
সূত্র: বাসস



