বিতর্কিত দ্বীপের কাছে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, জাপানের প্রতিবাদ

বিতর্কিত দ্বীপগুলোর কাছে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে- মস্কোর এমন ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। চলতি মাসের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই দ্বীপগুলো সফর করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিতর্কিত দ্বীপগুলোর কাছে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
বিতর্কিত দ্বীপগুলোর কাছে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা |সংগৃহীত

বিতর্কিত দ্বীপগুলোর কাছে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে- মস্কোর এমন ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। চলতি মাসের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই দ্বীপগুলো সফর করেছেন।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। জাপানে এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ বা ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলা হয়। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে নেয় এবং সেখানকার জাপানি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে।

জাপান সরকারের এক মুখপাত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘দ্বীপগুলোর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনার বিষয়ে রাশিয়ার দেয়া ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

তবে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে ঠিক কখন পরীক্ষাটি হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

রুশ নৌবহর এক বিবৃতিতে জানায়, সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে থাকা কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়, যেগুলোকে শত্রুপক্ষের জাহাজ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ নৌবাহিনীর ‘ভারিয়াগ’ যুদ্ধজাহাজ থেকে দু’টি ‘ভুলকান’ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘ওমস্ক’ থেকে ‘গ্রানিট’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। একই সময়ে কুরিল দ্বীপপুঞ্জে থাকা ‘বাষ্টিয়ন’ উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ‘অনিক্স’ ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বৃহস্পতিবার ওমান সফরকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নর্দার্ন টেরিটরিজে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, যার মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র মহড়াও রয়েছে, ওই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপানের অবস্থানের পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ
রাশিয়া ১৯৪৫ সাল থেকে দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। গত ১৩ আগস্ট পুতিন প্রথমবারের মতো ওই দ্বীপপুঞ্জে সরকারি সফর করেন। এর প্রতিবাদে জাপান রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। পরে মস্কোও পাল্টা জাপানি কূটনীতিককে তলব করে।

পুতিন কাছের রুশ দ্বীপ সাখালিন সফরের পর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান। সাখালিনে তখন রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল।

২০১০ সালে দিমিত্রি মেদভেদেভের সফরের পর পুতিনের সফরই ছিল কোনো রুশ প্রেসিডেন্টের ওই দ্বীপপুঞ্জে প্রথম সফর।

পুতিনের সফরের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী- দুই দিক থেকেই দ্বীপগুলো জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড।’

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই জাপান-রাশিয়া সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে।

জাপান অন্যান্য জি-৭ দেশের সাথে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিতর্কিত দ্বীপগুলোর ওপর জাপানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফর জাপানকে সতর্ক করার একটি বার্তা হতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেনকে আরো জোরালো সমর্থন, সম্ভাব্যভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি সরবরাহ এবং ন্যাটোর সাথে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা থেকে জাপানকে বিরত রাখতেই এ সফর হয়ে থাকতে পারে।

জাপান বর্তমানে ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী নয় এমন প্রতিরক্ষা সহায়তা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করলেও যুদ্ধরত কোনো দেশে সরাসরি প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সূত্র : বাসস