দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ৪৬ হেক্টরের এক চিলতে জমি ‘তাইপিং দ্বীপ’। এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে চীন, ফিলিপাইন আর ভিয়েতনামের মধ্যে যখন রেষারেষি তুঙ্গে, ঠিক তখনই সেখানে সশরীরে হাজির হয়ে চমক দিলেন তাইওয়ানের মহাসাগর বিষয়ক মন্ত্রী কুয়ান বি-লিং।
সাধারণত এসব বিতর্কিত এলাকায় বড় কর্মকর্তাদের পা খুব একটা পড়ে না, তবে মন্ত্রী কুয়ান সেখানে কোস্ট গার্ডের বিশেষ মহড়া তদারকি করে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন যে জায়গাটি আপাতত তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণেই আছে।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, দ্বীপে উপকূলীয় বাহিনীর উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি চিকিৎসা সরানোর ড্রিল চলাকালীন মন্ত্রী উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ফিলিপাইনের সাথে মিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। এই দহরম-মহরম দেখে বেইজিংয়ের মেজাজ এমনিতেই বিগড়ে আছে। তার ওপর তাইওয়ানের এই তৎপরতা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে।
বিবিসির তথ্যমতে, মহড়ায় দেখা গেছে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত স্পেশাল ফোর্স সদস্যরা একটি রহস্যময় মালবাহী জাহাজে অতর্কিতে হানা দিয়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বেইজিং অবশ্য চুপচাপ বসে নেই; তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সাগরে নতুন যুদ্ধজাহাজ নামিয়েছে এবং তাইওয়ান প্রণালীতে নিজেদের বিশাল এক বিমানবাহী রণতরী টহল দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আদালত এক রায়ে এই তাইপিং দ্বীপকে কেবলই একটা ‘পাথর’ হিসেবে গণ্য করেছিল, যার ফলে এর সমুদ্রসীমার অধিকার অনেকটা কমে যায়। কিন্তু তাইওয়ান আর চীন- উভয়পক্ষই সেই রায়কে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের দাবিতে অনড়।
বর্তমানে প্রায় ২০০ মানুষের বসতি থাকা এই দ্বীপে একটা হাসপাতাল আর রানওয়ে আছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ আগেই সতর্ক করেছিলেন যে চীনের বিশাল সব সামরিক ঘাঁটি এখন এই দ্বীপের একদম নাগালে। তাই মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর স্রেফ কোনো মহড়া দেখা নয়, বরং উত্তাল সাগরে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এক কৌশলী বার্তা।



