ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন কিম

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত ও পবিত্র’ আখ্যা দিয়ে মস্কোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন |সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত ও পবিত্র’ আখ্যা দিয়ে মস্কোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কেসিএনএ-এর বরাতে জানা যায়, তিনি রাশিয়াকে এই যুদ্ধে বিজয়ী করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে মস্কো দেশটিকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ করছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার বেশ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পিয়ংইয়ং সফর করেছেন। গতকাল রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ কিমের সাথে বৈঠক করেন।

বৈঠকে কিম বলেন, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষার নীতিকে উত্তর কোরিয়া সব সময় সমর্থন করবে।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও জনগণ এই ‘ন্যায়সঙ্গত পবিত্র যুদ্ধে’ অবশ্যই জয়লাভ করবে বলে তার বিশ্বাস।

ওই বৈঠকে দুই পক্ষই সামরিক সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছে।

বেলোউসভ জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সাথে একটি যৌথ সহযোগিতা পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত মস্কো।

এছাড়া কিম, বেলৌসোভ ও রাশিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভলোদিন ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে কনসার্ট, আতশবাজি ও বিমানবাহিনীর কুচকাওয়াজ ছিল। সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহ লড়াই ও সৈন্যদের আত্মত্যাগের চিত্র তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া একটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতে দুই দেশের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে, অপর দেশের দ্রুত সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ পুনর্দখলের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ইউক্রেন সেখানে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল, যা প্রতিহত করতে উত্তর কোরীয় সেনারা অংশ নেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিমকে পাঠানো এক চিঠিতে উত্তর কোরীয় সেনাদের ‘অসাধারণ সাহস ও নিষ্ঠা’র প্রশংসা করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান, ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার উত্তর কোরীয় নিহত হয়েছেন। এছাড়া জানা গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী হওয়ার পরিবর্তে আত্মহত্যা করতে উত্তর কোরীয় সৈন্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত মাত্র দুই জন উত্তর কোরীয় সেনাকে জীবিত অবস্থায় আটক করতে পেরেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: বাসস