গভীর সমুদ্র অভিযানে ছয় হাজার মিটার গভীরতা থেকে বিরল খনিজসমৃদ্ধ পলিমাটি উদ্ধার করা হয়েছে। মূল্যবান এই খনিজে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এ উদ্যোগ নেয়া পরীক্ষামূলক অভিযানে এ খনিজের সন্ধান মেলে।
সোমবার জাপান সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
জাপানের দাবি, এত গভীরতায় সমুদ্রতল থেকে বিরল খনিজ আহরণের এটি বিশ্বের প্রথম প্রচেষ্টা।
সরকারি মুখপাত্র কেই সাতো বলেন, নমুনায় ঠিক কতটা বিরল খনিজ রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে।
তিনি একে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সমন্বিত সামুদ্রিক উন্নয়নের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে উল্লেখ করেন।
গত মাসে ‘চিকিউ’ নামের একটি গভীর সমুদ্র খনন জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপ মিনামি তোরিশিমার উদ্দেশে যাত্রা করে। ধারণা করা হয়, দ্বীপটির আশপাশের সাগরে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ মজুত রয়েছে।
গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেন যে তাইওয়ানে হামলা হলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
বেইজিং প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এরই মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের কারণে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ পণ্যের রফতানি জাপানে বন্ধ করেছে চীন।
এতে জাপানে উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ বিরল খনিজের কিছু উপাদানও চীনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে।
বিরল খনিজ বলতে পৃথিবীর ভূত্বক থেকে উত্তোলনকৃত কঠিন ১৭ ধরনের ধাতুকে বোঝায়। এগুলো বৈদ্যুতিক যান থেকে শুরু করে হার্ড ড্রাইভ, উইন্ড টারবাইন ও ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
জাপানের অর্থনৈতিক পানিসীমায় অবস্থিত মিনামি তোরিশিমার আশপাশের এলাকায় ১ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি বিরল খনিজ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৈনিক নিক্কেইয়ের মতে, এটি বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম মজুদ।
নিক্কেই আরো জানায়, এই সমৃদ্ধ ভাণ্ডারে রয়েছে প্রায় ৭৩০ বছরের ডিসপ্রোসিয়াম- যা মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির উচ্চ ক্ষমতার চুম্বকে ব্যবহৃত হয়। একই সাথে এই ভাণ্ডারে রয়েছে প্রায় ৭৮০ বছরের ইট্রিয়াম, যা লেজারে ব্যবহৃত হয়।
আন্তর্জাতিক কৌশলগত অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের (আইআইএসএস) গবেষণা সহযোগী তাকাহিরো কামিসুনা বলেন, ‘মিনামি তোরিশিমার আশপাশ থেকে নিয়মিতভাবে বিরল খনিজ উত্তোলনে জাপান সফল হলে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে দেশের নিজস্ব সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘একই সাথে তাকাইচির সরকারের জন্য এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ, যা চীনের ওপর সরবরাহ নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করবে।’
বিরল খনিজে দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে ভূরাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করে আসছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধেও তা দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ও পরিশোধিত উৎপাদনের ৯২ শতাংশই চীনের দখলে রয়েছে।
সূত্র : বাসস



