ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলের বড় ধরনের হামলা

হামলায় ইরানের আইআরজিসি’র সর্বোচ্চ কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামি, জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ ড. ফেরেইদুন আব্বাসি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. তেহরাঞ্চি নিহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা |সংগৃহীত

তেহরানে আজ ভোররাতে ঘটে গেল এক নাটকীয় ও ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় সময় আনুমানিক সকাল ৩টার দিকে ইসরাইল একের পর এক হামলা চালায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ আরও কয়েকটি কৌশলগত স্থানে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এবং বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এ হামলায় ইসলামি বিপ্লবীরক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি’র শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

পিরোজি এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি’র প্রতিবেদক। তিনি জানান, তার ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ে ভয়াবহ এক দৃশ্য। আইআরজিসি সদর দফতরের ছাদ ভেদ করে আকাশে উঠছে ঘন কালো ধোঁয়া। এই দৃশ্যই সরাসরি সম্প্রচারে জানিয়ে দিল, তেহরানের বুকে ঝরে পড়েছে আগুন।

ইরানের জনপ্রিয় দৈনিক হামশাহরি অনলাইন বলেছে, প্রাথমিক খবরে বলা হয়, ইরানের আইআরজিসি’র সর্বোচ্চ কমান্ডার জেনারেল হোসেইন সালামি, জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ ড. ফেরেইদুন আব্বাসি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. তেহরাঞ্চি ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

হামশাহরি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানি টিভি চ্যানেল থ্রি’র একটি ব্রেকিং নিউজে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাকারী। বিশেষ করে ড. আব্বাসি এবং ড. তেহরাঞ্চির নাম এই তালিকায় থাকায় হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

হামশাহরি অনলাইন জানায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রেডিও থেকে প্রচারিত খবরে দাবি করা হয়েছে, তারা তেহরানের এমন একটি পাড়ায় অভিযান চালিয়েছে যেখানে আইআরজিসি’র শীর্ষ কমান্ডাররা বসবাস করতেন। শুধু রাজধানী তেহরানই নয়, হামলা চালানো হয়েছে নাতানজ, খন্দাব এবং খোররামাবাদের মতো পরমাণু ও সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা কেবল একজন-দুজন নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হয়নি—বরং এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কাঠামোয় ধাক্কা দেয়ার কৌশল নিয়েছে তেল আবিব।

হামশাহরি আলজাজিরার বরাত দিয়ে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ইসরাইল তাদের আগেই এই হামলার বিষয়ে অবহিত করেছিল। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামলাটি সম্পূর্ণভাবে ইসরাইল নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালনা করেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সরাসরি সহায়তা করেনি। এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ এক সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তেল আবিব কয়েকদিনব্যাপী সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত। এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তেহরানে একসঙ্গে এতজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও পরমাণু ব্যক্তিত্বের নিহত হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশেষ করে জেনারেল সালামির মতো এক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারের মৃত্যু ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কীভাবে জবাব দেবে—তা এখন গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা হয়তো একটি নতুন যুদ্ধপর্বের সূচনা হতে পারে।