প্রথমবারের মতো গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছেছে চীনা মহাকাশযান

চীনের মহাকাশযান ‘তিয়ানওয়েন-২’ প্রায় ১০০ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথমবারের মতো গ্রহাণু ‘২০১৬ এইচও৩’-এর কাছে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই মিশনের মাধ্যমে সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চীনের মহাকাশযান ‘তিয়ানওয়েন-২’ উৎক্ষেপণ করা হয় ২০২৫ সালের মে মাসে
চীনের মহাকাশযান ‘তিয়ানওয়েন-২’ উৎক্ষেপণ করা হয় ২০২৫ সালের মে মাসে |সংগৃহীত

গবেষণার জন্য গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পাঠানো চীনের মহাকাশযান ‘তিয়ানওয়েন-২’ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ১০০ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যস্থলে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে উৎক্ষেপণ করা এই মিশনটি গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহে চীনের প্রথম উদ্যোগ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের ঘোষিত ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নে চীন তাদের মহাকাশ কর্মসূচিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই অভিযান সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন (সিএনএসএ) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রায় ৪০০ দিনের যাত্রায় ১০০ কোটি কিলোমিটার অতিক্রম করার পর তিয়ানওয়েন-২ গ্রহাণুটির ২০ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছেছে। এরপর এটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

সংস্থাটি ‘২০১৬ এইচও৩’ নামের গ্রহাণুটির একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। এতে মহাশূন্যের কালো পটভূমিতে ধূসর ও পাথুরে এই গ্রহাণুকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

সিএনএসএ জানায়, ‘মহাকাশযানটি ধাপে ধাপে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালাবে। এর মাধ্যমে গ্রহাণুটির আকৃতি, উপাদানের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এগুলো পরবর্তী নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করবে।’

নমুনা সংগ্রহ শেষ হলে তিয়ানওয়েন-২ একটি পৃথক মডিউল বিচ্ছিন্ন করবে। সেটিই নমুনাগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

এর আগে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অভিযানগুলোও বিভিন্ন গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের বাইরের গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাথে ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রে তিয়ানওয়েন-২ চীনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

গ্রহাণু হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পাথুরে মহাজাগতিক বস্তু। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব গ্রহাণুর নমুনায় সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

সূত্র : বাসস