উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার কাং কন পরিদর্শনের সময় এ নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় কিম পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করা যায়।
শনিবার (৬ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবারের এই প্রতিবেদনটি এমন সময় এলো, যখন বেইজিং ও পিয়ংইয়ং ঘোষণা দিয়েছে যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ৮ থেকে ৯ জুন উত্তর কোরিয়া সফর করবেন।
গত মাসে শি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন।
গত কয়েক বছরে কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন। গত বছরের মে মাসে তিনি ডেস্ট্রয়ার কাং কন-এর একটি ব্যর্থ উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে জাহাজটি মেরামত করা হয় এবং এক মাস পর আবারো সফলভাবে পুনরায় চালু করা হয়।
পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন নৌবাহিনীকে দ্রুত এমন একটি শক্তিতে উন্নীত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা ‘পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে’।
কিম জং উন বলেন, শাসক দলের বর্তমান পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো এমন একটি নৌবাহিনী গঠন করা, যা পানির ওপর ও নিচে শত্রুদের ওপর ‘ধ্বংসাত্মক আঘাত’ হানতে সক্ষম হবে।
পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমকে তার মেয়ে জু আয়ে ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে জাহাজটি পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পরিধি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে ট্রাম্পের সাথে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের ২০১৯ সালের শীর্ষ সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং বারবার নিজেকে একটি ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।
পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় পিয়ংইয়ং। এমনকি রাশিয়ার সেনাদের সাথে যুদ্ধের জন্য হাজারো সেনা পাঠিয়েছে বলেও জানা যায়।
চলতি বছর বেইজিংয়ে এক সামরিক কুচকাওয়াজে কিম, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একসাথে উপস্থিত ছিলেন, যা তার আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
সূত্র: বাসস



