সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত একটি বৃহৎ দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার অর্থপাচারের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ তদন্তে ইতোমধ্যে আরো কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েছেন।
কুয়ালালামপুর থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ৫৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ হাফিজুদ্দিন জানতান এবং তার স্ত্রী সালওয়ানি আনোয়ার (২৬) তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নির্দোষ দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা শত শত হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে গ্রহণ করেছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশের প্রতিরক্ষা খাত বর্তমানে মালয়েশিয়ান দুর্নীতি দমন কমিশনের (এমএসিসি) তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ঘিরে একাধিক বিতর্কের পর এ তদন্ত শুরু হয়।
হাফিজুদ্দিনকে গত ডিসেম্বরে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর এমএসিসি তদন্ত শুরু করে, যার আওতায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয় এবং দম্পতির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। তিনি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।
এই তদন্তে আরো কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত অবৈধ কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত ২১ লাখ ২২ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৯২ মার্কিন ডলার) হাফিজুদ্দিনের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী সালওয়ানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৭৭ হাজার রিঙ্গিত গ্রহণ করেছেন।
মামলা চলাকালে উভয়কে জামিনে মুক্তি দেয়া হলেও তাদের পাসপোর্ট জমা দিতে এবং মাসে একবার এমএসিসিতে হাজিরা দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং অবৈধ অর্থের পাঁচ গুণ অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রিঙ্গিত যেটি বেশি জরিমানার বিধান রয়েছে।
শুক্রবার কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠ শাহ আলামে আদালতে হাফিজুদ্দিনের বিরুদ্ধে আরো দুটি অভিযোগ গঠন করা হবে।
এদিকে, আগামী সোমবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তেরেঙ্গানু রাজ্যে সালওয়ানির বিরুদ্ধেও একই আইনে একটি অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হবে।
গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সব ধরনের ক্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন, যাতে প্রক্রিয়াগত পূর্ণ অনুসরণ নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ২৬টি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিষয়ে এমএসিসি তদন্ত করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বারবার উচ্চমূল্যের চুক্তি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, সাবেক সশস্ত্র বাহিনী প্রধান মোহদ নিজাম জাফরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অবৈধভাবে উপহার গ্রহণের অভিযোগে শুক্রবার মামলা করা হবে বলে বুধবার জানিয়েছে এমএসিসি।
কমিশন আরো জানায়, আরো দু’জন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে এবং শিগগিরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে।
আনোয়ার এ সপ্তাহে বলেন, যেসব ক্রয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিন্তু এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলোও পুনরালোচনা করা হবে।
সূত্র : বাসস



