যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের তালিকায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যালেস্টাইন অ্যাকশন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে বুধবার (২৬ আগস্ট) ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে 'সন্ত্রাসী' সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করায় ১৩ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের রয়্যাল কোর্টস অফ জাস্টিসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে 'সন্ত্রাসী' সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করায় ১৩ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের রয়্যাল কোর্টস অফ জাস্টিসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা |সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপকে বুধবার (২৬ আগস্ট) ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বামপন্থী আন্দোলনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যে এ পদক্ষেপ নিল।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করছে। এ নিষেধাজ্ঞার পর কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অধিকার সংগঠনগুলো নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করে বলেছে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করাই এর লক্ষ্য।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সংগঠনটির লক্ষ্য হলো ‘ইসরাইলের গণহত্যামূলক ও বর্ণবাদী শাসনে বৈশ্বিক অংশগ্রহণ’ বন্ধ করা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করলে সংগঠনটি ব্যাপক পরিচিতি পায়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সরকারকে ‘কট্টর বামপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করা সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

বুধবারের মার্কিন পদক্ষেপে ইতালিভিত্তিক এ/আই কালেকটিভ নামেও পরিচিত অটিস্টিসি/ইনভেনতাতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন মাসার বাদিলকেও ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট প্যালেস্টাইন অ্যাকশনসহ তিনটি সংগঠনকেই ‘সহিংস চরম বামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অটিস্টিসি/ইনভেনতাতিকে ‘একটি বড় চরম বামপন্থী প্রযুক্তি সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় ও সহিংস অ্যান্টিফা গোষ্ঠীগুলো এ সংগঠনের সেবা ব্যবহার করে।

রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা দুর্বল করার ষড়যন্ত্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা কিংবা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজেদের অপরাধ গোপনের ষড়যন্ত্র করা সহিংস উগ্রপন্থীদের জন্য কোনো আশ্রয় থাকবে না।’

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, চরম বামপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ‘আমাদের অর্থনৈতিক হাতিয়ারগুলোর পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে’ এবং যতক্ষণ না তারা নির্মূল হবে ‘তাদের আর্থিক উৎসগুলো কেটে দেয়া হবে’।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি বলেন, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, তাদের সবার জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত’।

তিনি আরো বলেন, ‘জীবন রক্ষার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মকাণ্ড সবসময় ইসরাইলের যুদ্ধযন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বজায় ছিল। গাজায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থনে ইসরাইল যে গণহত্যা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ড নেয়া হয়।’

তবে ইসরাইল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে বলেছে, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো পশ্চিমা সমাজে ধারাবাহিক ভাবে সুযোগ নিয়েছে। তারা সহিংস কর্মকাণ্ড আড়াল করতে রাজনৈতিক ও মানবিক উদ্দেশ্যের কথা বলেছে, তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করেছে এবং অবৈধ অর্থায়নের পথ তৈরি করেছে।’

এপ্রিল মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও রাশিয়ার নেতারা একটি নতুন ‘শোষণমূলক’ বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

সূত্র : বাসস