ট্রাম্পের সাথে যোগসাজশ

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বাড়ি তল্লাশি, পায়ে নজরদারি যন্ত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি হুমকি দেন, বলসোনারোকে আইনি ছাড় না দিলে ১ আগস্ট থেকে ব্রাজিলের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে যোগসাজশের অভিযোগে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বাড়ি ও রাজনৈতিক সদরদফতরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। একইসাথে বলসোনারোর পায়ে নজরদারি ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিদেশী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) দেশটির সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রতিপক্ষ লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভার ক্ষমতা গ্রহণ ঠেকাতে তিনি ষড়যন্ত্র করেছিলেন। বর্তমানে তার বিচার চলছে সুপ্রিম কোর্টে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলসোনারোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি হুমকি দেন, বলসোনারোকে আইনি ছাড় না দিলে ১ আগস্ট থেকে ব্রাজিলের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।

ব্রাজিলের পুলিশের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যোগসাজশ করে এই শুল্ক চাপিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছেন বলসোনারো ও তার ছেলে এদুয়ার্দো। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পরই এই ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে আসে।

এরপরই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে ডি মোরেস বলসোনারোর ওপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বলসোনারো ভিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে ব্রাজিলের বিচারবিভাগে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বলসোনারোর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তার পায়ে ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরিয়ে দেয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিদেশী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ ও ব্রাজিলে অবস্থিত বিদেশী দূতাবাস ও কনস্যুলেটে প্রবেশ।

এছাড়া, বলসোনারোর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মিত্রদের সাথেও যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি তার ছেলে কংগ্রেস সদস্য এদুয়ার্দোর সাথেও নয়।

বলসোনারো একে রাজনৈতিক নিপীড়ন বলে মন্তব্য করেন। শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কখনো ব্রাজিল ছাড়ার কথা চিন্তাও করিনি।’

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশকে ‘চরম অপমান’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।

সূত্র : ইউএনবি