কাতারের বিমান ‘উপহার’ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কতটা সত্য?

পেন্টাগন বিমানটি কেনার প্রস্তাব দিলে কাতার ইঙ্গিত দেয় যে তারা এটি বিক্রি করতে ইচ্ছুক।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কাতার উপহার হিসেবে তাকে একটি বিমান দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনই প্রথমে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য কাতারের কাছে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সোমবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন চারটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন বোয়িংয়ের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে, প্রেসিডেন্টের পুরোনো বিমানের স্থানে নতুন বিমান প্রস্তুত করতে আরো দুই বছর সময় লাগবে।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বিমান প্রতিস্থাপনের কাজ আরো দ্রুত চেয়েছিল এবং তার জন্য বিমান বাহিনী বিভিন্ন বিকল্প খুঁজছিল। সে সময় ট্রাম্প তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফকে সম্ভাব্য বিমানের একটি তালিকা খুঁজে বের করতে বলেন। হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানান।

তিনটি সূত্র জানায়, পেন্টাগন বোয়িংয়ের সাথে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ রাখছিল। এ সময় বোয়িং বিশ্বজুড়ে তাদের অন্য গ্রাহকদের একটি তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দেয়, যাদের বিমান বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আলোচনার সাথে পরিচিত দ্বিতীয় সূত্রটি জানায়, ‘কাতার ছিল সেই গ্রাহকদের একজন।’ পেন্টাগন বিমানটি কেনার প্রস্তাব দিলে কাতার ইঙ্গিত দেয় যে তারা এটি বিক্রি করতে ইচ্ছুক।

তৃতীয় সূত্রটি জানায়, হোয়াইট হাউস কাতারের থেকে বিমান কেনার বিষয়টি সমর্থন করেছে জানার পর পেন্টাগন কাতারের সাথে আলোচনা শুরু করে। স্টিভ উইটকফ প্রাথমিক কথোপকথন এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন বলে জানান হোয়াইট হাউসের এই কর্মকর্তা। তবে বিমানটি সরাসরি কেনার চেয়ে লিজ নেয়ার ব্যাপারেই প্রাথমিক আলাপ হয়েছিল।

কিন্তু ট্রাম্প বারবার সম্ভাব্য চুক্তিটিকে কাতারের রাজপরিবারের ’উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেন, ‘এটি একটি বিনামূল্যের উপহার।’

ট্রাম্প বলেন, এটি এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি অস্থায়ী বিকল্প হবে এবং তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এটি তার প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরিতে দেয়া হবে। তবে তখন এ বিমানে আর চড়বেন না বলে জানান তিনি।

প্রশাসনিক যোগাযোগের বিশদ বিবরণ জেটটির সম্ভাব্য হস্তান্তরের উৎস সম্পর্কে নতুন আলোকপাত করে, যা গত সপ্তাহে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরকে ধামাচাপা দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল। ডেমোক্র্যাট এবং বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান, যারা সাধারণত রাষ্ট্রপতির কট্টর সমর্থক, তারা বলেছেন যে তারা নীতিগত কারণে সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতা করেন। কাতারও তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে, ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা উপসাগরীয় দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন।

এয়ার ফোর্স ওয়ানের সম্ভাব্য প্রতিস্থাপন নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এলে তা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। ডেমোক্র্যাট নেতাদের পাশাপাশি ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য এ চুক্তির বিরোধিতা করেন। কাতারও সমালোচনার মুখে পড়ে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা উপসাগরীয় দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি আটকে দেয়ার হুমকি দেন।

গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘বোয়িং বিমান নিয়ে অনেক দেরি করছে। কাতার এটা শুনে সাহায্যের প্রস্তাব দেয়। কাতারের নেতা একজন দারুন নেতা। আমরা কথা বলছিলাম এবং তিনি বললেন, আমি যদি আপনাকে সাহায্য করতে পারি, তবে তা করার সুযোগ দিন। তাদের কাছে এমন একটি বিমান রয়েছে।’

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প তার কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে তার মার-আ-লাগো অবকাশকেন্দ্রের পাশে ফ্লোরিডার পাম বিচ বিমানবন্দরে কাতারের বিমানটি পরিদর্শন করেন। বিমানটি কতটা বিলাসবহুল তা নিয়ে তার পাশে থাকা ব্যক্তিদের কাছে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চাং বলেছেন, বিমানটির অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খতিয়ে দেখতে ট্রাম্প সেটিতে ওঠেন।

ওয়াশিংটন ও দোহা উভয়ই জোর দিয়ে বলেছে, যদি বিমানটি হস্তান্তর করা হয়, তবে তা কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মধ্যে আইনি চুক্তির মাধ্যমেই হবে।

আলোচনা নিয়ে অবগত এমন চারটি সূত্র বলেছে, আইনজীবীরা এখনো এ সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।