রাডারের শ্যেন নজর ফাঁকি দিতে ওস্তাদ, দেখতে অনেকটা সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মহাকাশযানের মতো- কিন্তু পকেটের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজাতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস জুমওয়াল্টে আবারো আগুন লেগেছে।
মিসিসিপির পাসকাগুলাতে অবস্থিত এইচআইআই ইঙ্গলস শিপবিল্ডিং ডকইয়ার্ডে আধুনিকীকরণের কাজ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। এতে তিন নাবিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি জানাচ্ছে, ১৯ এপ্রিলের এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন নৌবাহিনী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে। ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই জাহাজটি এখন ডকইয়ার্ডে পড়ে আছে স্রেফ নিজের ‘পরিচয়’ বদলানোর আশায়।
মজার ব্যাপার হলো, আকাশছোঁয়া দাম আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দাপট থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো আসল যুদ্ধে এই জাহাজটি অংশ নিতে পারেনি। পেন্টাগনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই যুদ্ধজাহাজটি, যা বড় হতে হতে আসলে ঠিক কী হতে চায়, তা নিয়ে খোদ নৌবাহিনীই যেন কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে।
পরিচয় সঙ্কটে ৮ বিলিয়ন ডলারের জাহাজ
ইউএসএস জুমওয়াল্ট মূলত তৈরি করা হয়েছিল দু’টি ১৫৫ মিলিমিটারের অ্যাডভান্সড গান সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে, যা স্থলভাগে নিখুঁত নিশানায় গোলাবর্ষণ করতে পারতো। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো যখন দেখা গেল এই কামানের একেকটি গোলার দাম আকাশ ছুঁয়েছে। একপর্যায়ে কামানের গোলার খরচ জোগাতে হিমশিম খেয়ে কামানের সিস্টেমটিই জাহাজ থেকে উপড়ে ফেলা হয়। তার বদলে এখন বসানো হচ্ছে ৮৭ ইঞ্চির বিশাল মিসাইল টিউব, যাতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বা শব্দাতীত গতির অস্ত্র ছোড়া যায়। কিন্তু আফসোস, সেই হাইপারসনিক প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি তৈরিই হয়নি।
নৌবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ বা ২০২৮ সালের আগে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ২০১৮ সালের এক পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই সিরিজের মাত্র তিনটি জাহাজ বানাতে পেন্টাগনের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ বিলিয়ন ডলার। সংবাদ মাধ্যমগুলো তো একে সরাসরি ‘৮ বিলিয়ন ডলারের এক ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জাহাজটি যেন এখন এক কিশোরের মতো, যে এখনো জানে না সে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে নাকি ডাক্তার; শুধু এর ক্যারিয়ারের এই দোটানা দূর করতেই কোষাগার থেকে পানির মতো টাকা খরচ হচ্ছে।



