- সুমাইয়া ইয়াসমিন
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম দুটি কৃত্রিম জলাধার 'লেক মিড' এবং 'লেক পাওয়েল'-এ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কলোরাডো নদী অববাহিকায় তৈরি হওয়া এই অভাবনীয় সংকট বিশ্বব্যাপী পরিবেশবিদদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দশক ধরে চলা এই খরা পরিস্থিতিকে এখন আর কেবল সাময়িক খরা বলা যাচ্ছে না, বরং এটি একটি স্থায়ী পানিশূন্যতার সংকেত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদী অববাহিকার পানি অন্তত চার কোটি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটায়। একই সাথে এই নদীর পানি দিয়ে অঞ্চলের বিশাল কৃষি খাত সেচ সুবিধা পায় এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পর্বতমালা অঞ্চলে অপর্যাপ্ত তুষারপাতের কারণে নদীতে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা, নেভাদা, ক্যালিফোর্নিয়া, উটাহ এবং মেক্সিকোর কিছু অংশে পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
লেক মিড এবং লেক পাওয়েল—উভয় জলাধারই তাদের মোট ধারণক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে গেছে। এর ফলে বাঁধগুলোতে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পানি এভাবে কমতে থাকলে বাঁধের টারবাইনগুলো অকেজো হয়ে পড়তে পারে, যা স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চরম প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এর তীরবর্তী বিশাল অংশ শুষ্ক ধূলিময় প্রান্তরে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেডারেল সরকার ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করেছে। কৃষকদের পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলা হচ্ছে এবং শহর এলাকায় বাগান সেচ ও অন্যান্য অপচয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল সাময়িক কাটছাঁট দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য কলোরাডো নদীর পানি বণ্টন চুক্তিগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগ অপরিহার্য।
লেক মিড ও লেক পাওয়েলের বর্তমান শুষ্ক রূপ মূলত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং তা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। পানির ব্যবহার পুনর্বিন্যাস এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে এক মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।



