ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হামলা : রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া

ভেনিজুয়েলায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো |সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব।

রাশিয়া : মস্কো ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র আগ্রাসনের’ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা রোধ করা এবং সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজে বের করার দিকে মনোনিবেশ করা গুরুত্বপূর্ণ।

রুশ মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, মাদুরো এবং তার স্ত্রীর গ্রেফতারের বিষয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যদি এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়, তবে তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।

যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কাইর স্টারমার বলেছেন যে তার দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জড়িত ছিল না এবং তিনি ট্রাম্পের সাথে কথা বলতে এবং কী ঘটেছে তার সম্পূর্ণ তথ্য জানতে চান।

ব্রাজিল : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মার্কিন বোমা হামলা এবং মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে দেশগুলোতে আক্রমণ করা সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতার এক বিশ্বে প্রথম পদক্ষেপ, যেখানে বহুপাক্ষিকতার উপর সবচেয়ে শক্তিশালীদের আইন প্রাধান্য পায়।

তিনি আরো বলেন, মার্কিন হামলা ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে ‘হস্তক্ষেপের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত’ স্মরণ করিয়ে দেয়, যা সমগ্র অঞ্চলের শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলে।

এ সময় তিনি জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই পর্বের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানান।

ইরান : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভেনিজুয়েলার উপর মার্কিন হামলা দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন : ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা ক্যালাস বলেছেন, তিনি ভেনিজুয়েলার সর্বশেষ ঘটনাবলী নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কারাকাসে অবস্থিত ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা বলেছেন। তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, সকল পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসঙ্ঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমরা সংযমের আহ্বান জানাই।

স্পেন : স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ ভেনিজুয়েলায় উত্তেজনা হ্রাস, সংযম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানায়। ভেনিজুয়েলায় শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করার জন্য মধ্যস্থতারও প্রস্তাব দেয় দেশটি।

ইন্দোনেশিয়া : ইন্দোনেশিয়া সকল পক্ষকে উত্তেজনা হ্রাস এবং সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও বলেছে।

এ সময় আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসঙ্ঘ সনদের নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার উপরও গুরুত্বারোপ করে দেশটি।

মেক্সিকো : মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম পারদো বলেছেন, তার দেশ ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানায়। এ সময় তিনি জাতিসঙ্ঘ সনদের একটি প্রবন্ধও উল্লেখ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, সংস্থার সদস্যরা তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি কিংবা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে, অথবা জাতিসঙ্ঘের উদ্দেশ্যের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অন্য কোনো উপায়ে।

কলম্বিয়া : হামলার ঘটনায় জাতিসঙ্ঘকে ‘অবিলম্বে বৈঠক’ করার আহ্বান জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুতাভো পেত্রো। তিনি আরো জানান, ভেনিজুয়েলা সীমান্তে তারা বাহিনী মোতায়েন করেছেন।

কিউবা : কিউবার প্রেসেডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, তার দেশ ‘ভেনিজুয়েলার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধমূলক আক্রমণের নিন্দা জানায় এবং জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া আশা করে।’

ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো : ‘ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো ভেনিজুয়েলার জনগণের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কমলা পারসাদ-বিসেসার।

চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক ফন্ট ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তার সরকারের ‘উদ্বেগ এবং নিন্দা’ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা দেশটিকে প্রভাবিত করে এমন গুরুতর সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাই। এ সময় ভেনিজুয়েলার সঙ্কটকে সংলাপ ও বহুপাক্ষিকতার সমর্থনের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

জার্মানি : জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে সর্বশেষ প্রতিবেদনগুলো অনুসরণ করছে।

ইতালি : ইতালির ‍প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা : মার্কিন সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ (ডেমোক্র্যাট) এক্স-এ লিখেছেন: ‘ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধ করার মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ আমাদের নেই। এতদিনে আমাদের শেখা উচিত ছিল আরেকটি নির্বোধ অভিযানে না জড়ানো।

অন্য ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো এক্স-এ লিখেছেন: ‘এই যুদ্ধ বেআইনি। এক বছরেরও কম সময়ে আমরা বিশ্ব পুলিশ থেকে বিশ্ব দমকবাজে পরিণত হয়েছি—এটা লজ্জাজনক। ভেনেজুেলার সঙ্গে যুদ্ধ করার কোনো কারণ নেই।

সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা