ট্রাম্পের শুল্কনীতি আটকে দিলো মার্কিন আদালত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের উচ্চহারে শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ আটকে দিয়েছে মার্কিন আদালত। একইসাথে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের পৃথকভাবে আরোপ করা শুল্কও স্থগিত করেছে আদালত।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

বিভিন্ন দেশের ওপর ব্যাপকহারে শুল্ক আরোপের যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটি আটকে দিয়েছে দেশটির এক আদালত। আদালতের এ রায়কে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির ওপর একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

বুধবার (২৮ মে) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত রায় দিয়েছে, যে জরুরি আইনের অজুহাত দেখিয়ে হোয়াইট হাউজ শুল্ক আরোপ করেছে, সেই আইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে একচেটিয়াভাবে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে শুল্ক বসানোর এখতিয়ার দেয় না।

ম্যানহাটনভিত্তিক আদালতটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের একচেটিয়া ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য প্রেসিডেন্টের হাতে যে ক্ষমতা, কংগ্রেসের ক্ষমতা তার চেয়ে বেশি।

বিবিসি জানিয়েছে, একইসাথে চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর ট্রাম্প প্রশাসন পৃথকভাবে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, সেটিও স্থগিত করেছে আদালত। তখন হোয়াইট হাউজ বলেছিল, অগ্রহণযোগ্য মাদক প্রবাহ ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোই এ শুল্ক আরোপের প্রধান কারণ।

এদিকে আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আদালতের রায়ের পর হোয়াইট হাউজের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো জাতীয় জরুরি অবস্থা কিভাবে যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নির্ধারণ করা অনির্বাচিত বিচারকদের কাজ নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। আর ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিটি নির্বাহী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সব ধরনের সংকট মোকাবেলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মহত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিকারক পাঁচটি ক্ষুদ্র ব্যবসার পক্ষে মামলাটি দায়ের করেছিল রাজনৈতিক সংস্থা লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার। যে দেশগুলো থেকে তারা পণ্য আমদানি করে, ওই দেশগুলোর পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এ মামলাই হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ। মামলাটি ছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে আরো ছয়টি মামলা চলছে। আর এগুলো করেছে ১৩টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য এবং আরো অনেক ছোট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।

সর্বশেষ রায়ে তিন বিচারকের প্যানেল থেকে বলা হয়েছে, ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দেয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্টে’র (আইইইপিএ) দোহাই দিলেও ওই আইন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একচেটিয়াভাবে এ ধরনের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।

বিচারকরা লিখেছেন, ‘আইইইপিএ আইনে শুল্ক আরোপের বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে যে ক্ষমতা দেয়া আছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বিশ্বব্যাপী ও প্রতিশোধমূলক শুল্ক আদেশগুলো সেই ক্ষমতার পরিধিকে ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাফিকিং ট্যারিফ ব্যর্থ, কারণ এগুলো আদেশে উল্লিখিত হুমকির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প শুল্ক ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববাজারে টালমাটাল পরিস্থিতি দেখা দেয়। যদিও এরপর ওই ঘোষণা পুনর্বিবেচনা করা হয়। এবং কিছু শর্ত তুলে নিয়ে অন্যান্য দেশের সাথে দর কষাকষিও করে হোয়াইট হাউজ।

তবে আদালত এ রায় দেয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে এশিয়ার শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে, যা প্রায় ১.৫ শতাংশ। আর অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচকেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

মার্কিন শেয়ার বাজারেও এ রায়ের প্রভাব পড়েছে। ভবিষ্যতের কোন তারিখে সম্পদ কেনা-বেচা করা যায়, এ সংক্রান্ত শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে। সেই সাথে, ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁ’র মতো মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে।