যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা নিয়ে ‘বড় বৈঠকে’ সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প

গাজার জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বুধবার একটি বৈঠকের আয়োজন করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আজ একটি বৈঠকের আয়োজন করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

উইটকফ এ সম্পর্কিত আর কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আজ হোয়াইট হাউসে আমাদের একটি বড় বৈঠক আছে, এর সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট। এটি একটি অত্যন্ত বিস্তৃত পরিকল্পনা যা আমরা পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করছি।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের যুদ্ধের সমাপ্তির কথা উল্লেখ করে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় ‘গাজায় যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের জন্য কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না।’

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প তার এক বক্তব্যে বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয়া উচিত, এর দুই মিলিয়ন বাসিন্দাকে সরিয়ে দেয়া উচিত এবং সমুদ্র তীরবর্তী এই স্থানে রিয়েল এস্টেট নির্মাণ করা উচিত।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত বোমা অপসারণ করবে এবং গাজাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরায়’ পরিণত করবে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন, তবে অনেক ইউরোপীয় ও আরব রাষ্ট্র এর তীব্র সমালোচনা করে।

উইটকফ মঙ্গলবার যে পরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ দেননি। তবে তিনি জানান যে তিনি বিশ্বাস করেন, ‘পরিকল্পনাটি কতটা শক্তিশালী, কেমন এবং কতটা অর্থবহ তা মানুষ দেখতে পাবে।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামাসের আক্রমণের ফলে গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এএফপির এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ওই হামলায় এক হাজার ২১৯ জন ইসরাইলি নিহত হন, যাদের বেশিভাগই বেসামরিক নাগরিক।

এদিকে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজায় ইসরাইলের আক্রমণে কমপক্ষে ৬২ হাজার ৮১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিভাগই বেসামরিক নাগরিক। জাতিসঙ্ঘ এই পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করে।

সূত্র : বাসস