ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আগামী মাসে জাতিসঙ্ঘে বিশ্ব নেতাদের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল তার। ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি নেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
মাহমুদ আব্বাস ম্যানহাটনে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্ক যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। সেখানে ফ্রান্স ও সৌদি আরব আয়োজিত একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা ছিল তার। ওই সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত। তাদের যুক্তি এটি জাতিসঙ্ঘের ‘সদর দফতরের চুক্তি’ লঙ্ঘন করেছে।
১৯৪৭ সালের জাতিসঙ্ঘের ‘সদর দফতর চুক্তি’ অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘে বিদেশী কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও বৈদেশিক নীতির কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও পিএলও চরমপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং একতরফাভাবে রাষ্ট্র স্বীকৃতির চেষ্টা করছে।
তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কয়েক দশক ধরে মার্কিন-মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স



